উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের মদদদাতাদের আজ রবিবার থেকে শোকজের চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, তাদের মদদদাতা হিসেবে এমপি-মন্ত্রীরাও থাকতে পারেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে দলের
সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন এবং তাদের যারা মদদ দিয়েছিলেন, তাদের শোকজ নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক আছে। আজ (রবিবার) থেকে তাদের শোকজের চিঠি পাঠানো হবে। শোকজ পাঠানোর পর তারা তিন সপ্তাহ সময় পাবেন জবাব দেওয়ার জন্য।’ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রায় দেড় শয়ের মতো বিদ্রোহী ও মদদদাতাকে শোকজ চিঠি দেওয়া হবে। এর মধ্যে মদদদাতার সংখ্যা অর্ধেক হতে পারে।
যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের মধ্যে দলের এমপি ও মন্ত্রীরা আছেন কি না, জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মদদদাতাদের মধ্যে থাকতে পারে। উপজেলা নির্বাচনে বিরোধিতাকারীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের জানার কৌতূহল আছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কদের বলেন, ‘জঙ্গি তৎপরতা একেবারে থেমে গেছে এমন কথা আমরা কখনো বলিনি। জঙ্গিবাদ আছে, এটা বৈশ্বিক সমস্যা। মালিবাগ, পল্টন, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার ঘটনা বিচ্ছিন্ন বলে আমরা মনে করি না। তবে আমরা সতর্ক আছি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা দুর্বল নয়। যেকোনো পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত আছে।’
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বালিশ ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে পর্দা ক্রয়ে দুর্নীতির ঘটনাকে ‘ছিঁচকে কাজ’ বলে অভিহিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ ধরনের ছিঁচকে কাজ যারা করে, তারা নিশ্চয়ই এমপি বা মন্ত্রী নয়। এটা হাওয়া ভবনের মতো লুটপাটের বিষয় নয়। দেশটাকে লুটপাট করে খেয়েছে হাওয়া ভবন।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বিএম মোজাম্মেল হক, এ কে এম এনামুল হক শামীম, ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপদপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া প্রমুখ।