জটিল ও দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় সরকারি কর্মচারীদের এখন থেকে দুই লাখ টাকা অনুদান দেবে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড। সাধারণ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পাবেন ৪০ হাজার টাকা। একই সঙ্গে যৌথ বীমার এককালীন অনুদান ও চাকরিজীবীদের দাফন বা শেষকৃত্য বাবদ সহায়তাও দ্বিগুণ করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি
করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কর্মচারী কল্যাণ তহবিল থেকে রোগীদের মাসে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হবে দুই হাজার টাকা। এত দিন কল্যাণ ভাতার পরিমাণ ছিল মাসে এক হাজার টাকা। সাধারণ চিকিৎসায় অনুদান হিসেবে সর্বোচ্চ দেওয়া হবে ৪০ হাজার টাকা। এত দিন এ খাত থেকে কোনো কর্মচারী সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পেতেন। কোনো কর্মচারী মারা গেলে তার দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বাবদ সহায়তা হিসেবে এত দিন পাঁচ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হতো, এখন তা বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আবদুল মতিন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, এত দিন সরকারি কর্মচারীরা যৌথ বীমার এককালীন অনুদান হিসেবে এক লাখ টাকা করে পেতেন, এখন তা বাড়িয়ে দুই লাখ করা হয়েছে। একইভাবে জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসা সহায়তা বাবদ এত দিন এক লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হতো, এখন তা বাড়িয়ে দুই লাখ করা হয়েছে। একইভাবে দাফন-অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া বাবদ সহায়তা, সাধারণ চিকিৎসা অনুদানসহ সব ধরনের সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতিসহ নানা কারণে চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ব্যয়সহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য খরচ বেড়েছে। সে কারণেই তাদের বিভিন্ন ধরনের অনুদান বাড়াতে হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ বিশেষ প্রয়োজনে চাকরিজীবীদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।
কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অধীনে একটি কল্যাণ তহবিল রয়েছে। সেই তহবিলে মাসিক সর্বোচ্চ চাঁদা ও যৌথ বীমার মাসিক সর্বোচ্চ প্রিমিয়ামও আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। এত দিন কল্যাণ তহবিলে একজন চাকরিজীবী প্রতি মাসে নির্ধারিত ৫০ টাকা হারে চাঁদা পরিশোধ করতেন। এখন তা মূল বেতনের ১ শতাংশ কিন্তু সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে এত দিন যৌথ বীমার মাসিক সর্বোচ্চ প্রিমিয়াম ছিল ৪০ টাকা। এখন তা বাড়িয়ে মূল বেতনের দশমিক ৭ শতাংশ কিন্তু সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, জটিল দুরারোগ্য ব্যাধি বলতে সাধারণত হৃদরোগ, ব্রেইন স্ট্রোক, বাইপাস সার্জারি, হার্টে রিং পড়ানো, ক্যানসার, কিডনি ডায়ালাইসিস, কিডনি ট্রান্সফার, মারাত্মক দুর্ঘটনাজনিত অঙ্গহানির ক্ষেত্রে এই অনুদান দেওয়া হয়। আর সরকারি ও তালিকাভুক্ত ১৯টি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে অথবা অক্ষম হলে তার পরিবারকে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত কল্যাণ ভাতা দেওয়া হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসর গ্রহণের ১০ বছরের মধ্যে মৃত্যুবরণ করলে, মৃত্যুর পরদিন থেকে পরবর্তী ১০ বছর প্রতি মাসে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সরকারি ও ১৯টি তালিকাভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় চাকরিরত অবস্থায় কোনো কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারকে ওই কর্মচারীর সর্বশেষ প্রাপ্ত মাসিক মূল বেতনের ২৪ মাসের সমপরিমাণ অর্থ বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা যৌথ বীমার এককালীন সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।