সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশ সমন্বিত নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষ’ গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য : চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ সুপারিশ করেন বক্তারা।
কনসাস কনজ্যুমার সোসাইটি আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ
ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ মো. জাকির হোসাইন খান।
সেই প্রবন্ধের ওপর আলোচনার সময় বক্তারা বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে একটি সংস্থাকেই দায়িত্ব দিতে হবে। সরকার যদি আন্তরিক হয়, তাহলে শক্তিশালী একটি সংস্থা গড়ে তোলা যাবে। যার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কাজ বেগবান হবে।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) ঢেলে সাজানোর তাগিদ দিয়ে সরকারকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয় এ সময়।
এ ছাড়া খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণে নিরাপদ খাদ্য-সম্পর্কিত আইন প্রণয়ন বা সংশোধনী নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের মতো সরকারি, বেসরকারি বিশেষজ্ঞসহ সব অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘বাংলাদেশে সমন্বিত নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষ’ গঠনের সুপারিশ করা হয়।
এ ছাড়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ সংশোধন করে ভোক্তার সরাসরি মামলা করার অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাজার পরিদর্শন ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় ম্যাজিস্ট্রেট, প্রসিকিউটিং এজেন্সি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তার বাধ্যবাধকতা রাখার বিধান নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।
নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩-এ সংশোধনী এনে প্রতিটি জেলা ও মহানগরে এক বা একাধিক খাদ্য আদালত গঠনেরও সুপারিশ করা হয় আলোচনায়।
খাদ্যে ভেজাল মেশানোর অপরাধে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ ও ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা, আমদানি পণ্যগুলোর প্রবেশমুখে মান পরীক্ষা করে বাজারে ছাড়া, ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরি ও বেনাপোল স্থলবন্দরের পরীক্ষাগারে জনবল নিয়োগ, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে তরুণদের সম্পৃক্ত করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির কার্যক্রম বেগবান করার সুপারিশও করা হয় এ সময়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।