কিছু ট্রাভেল এজেন্সি কেবিন ক্রুদের মাধ্যমে বিদেশ থেকে সোনা চোরাচালান করছে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ক্রুরা এ কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। সোনা চোরাচালান নিয়ে অনুসন্ধানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এ তথ্য পেয়েছে। সংস্থাটি বলছে, আন্তর্জাতিক ও দেশি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সোনাগুলো বাংলাদেশে ঢুকেছে। বিমানের ক্রুদের ব্যবহার করছে তারা। প্রতি কেজি সোনা বহনে কেবিন ক্রু এক থেকে দেড় লাখ টাকা পান। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু রোকেয়া শেখ মৌসুমীকে (২৪) ১০ কেজি সোনাসহ গ্রেপ্তার করে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এর আগে গত ১৮ মার্চ সৌদিয়া এয়ারলাইনসের জেদ্দা থেকে ঢাকাগামী একটি বিমানে চার কেজি সোনার বারসহ কাস্টমসের হাতে গ্রেপ্তার হন দুই কেবিন ক্রু। সেই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় করা দুটি পৃথক মামলার তদন্ত করছে পিবিআই। গত কয়েক মাসের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নানা তথ্য। প্রাথমিক তদন্তে সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আলি এয়ার ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের হোসাইন আহাম্মেদ মজুমদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। এছাড়া সৌদিয়া এয়ারলাইনসের চার বিমান ক্রুর ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ায় তাদেরও ডাকা হয়েছে।
এ কাজে কয়েকজন সোনা ব্যবসায়ীর জড়িত থাকার তথ্যও পেয়েছে সংস্থাটি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই আল আমিন শেখ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বর্ণ চোরাচালান মামলার তদন্ত চলছে। আশা করছি খুব শিগগির এর পেছনে যারা রয়েছে তাদের বের করা সম্ভব হবে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।’ তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে এক বিশাল সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে। আলি এয়ার ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস এজেন্সিসহ সৌদিয়া এয়ারলাইনসের অন্যান্য কেবিন ক্রুও এর সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তথ্যে পাওয়া যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘কেবিন ক্রুদের মধ্যে ইথার ফারিয়ার হামিদ অন্যতম। দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এছাড়া জামাল ও মামুন নামের দুই স্বর্ণ ব্যবসায়ী জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।’
বিমানবন্দর থানায় করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৮ মার্চ জেদ্দা থেকে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ওই বিমানের কেবিন ক্রু সাইমা আক্তার (৪০) ও ফারজানা আফরোজ (৩২) বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বর্ণ থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে ফারজানার কাছ থেকে ১০টি এবং সাইমার কাছ থেকে ২৬টি বার উদ্ধার করা হয়; যার মোট ওজন ৪ কেজি ১৯০ গ্রাম। এ ঘটনায় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শাহনাজ আক্তার ও মাসুমা বেগম বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দুটি মামলা করেন। মামলার বাদী মাসুমা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার দিন আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল যে স্বর্ণ আসছে। আমরা সাধারণত সবার ব্যাগ চেক করতাম। ক্রুদেরও বেশিরভাগ সময় ব্যাগ চেক করা হতো, শরীর তল্লাশি করা হতো কম। একসঙ্গে অনেক যাত্রী বিমান থেকে নামলে তাদের শরীর চেক করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সুযোগ নিতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু আমরা তাদের ধরে ফেলি।’