একুশে পদকপ্রাপ্ত গবেষক, সাহিত্যিক ও মানবাধিকারকর্মী মংছেনচীং মংছিন (৫৮) আর নেই। গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় রাঙ্গামাটির তবলছড়ি এলাকায় নিজের মেয়ের বাসায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আজ বিকেলে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি শ্মশানে তার শেষকৃত্য
সম্পন্ন হবে।
তার ভাগ্নে টিপলু দেশ রূপান্তরকে জানান, ফুসফুসের ক্যানসারসহ বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছিলেন মংছেনচীং। এ কারণে দীর্ঘদিন ঢাকায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাও নিয়েছেন তিনি।
মংছেনচীং মংছিংয়ের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও শরণার্থীবিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী, অরণ্যবার্তা সম্পাদক চৌধুরী আতাউর রহমানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পার্বত্য চট্টগ্রামের একমাত্র একুশে পদকপ্রাপ্ত এই গবেষকের জন্ম ১৯৬১ সালে কক্সবাজার জেলার রাখাইনপাড়ায়। রাখাইন, ত্রিপুরা, মারমাসহ পাহাড়ি নৃগোষ্ঠীগুলোর ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনাচরণ ছিল তার গবেষণা ও লেখালেখির মূল বিষয়। মানবাধিকারকর্মী হিসেবেও বিভিন্ন সময় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। সাহিত্য ও লেখালেখিতে অবদানের জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশের বেসামরিক সর্বোচ্চ পুরস্কার একুশে পদকে ভূষিত হন মংছেনচীং। এর আগে বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য ও গবেষণার জন্য বহু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। নিয়মিত লিখতেন রাঙ্গামাটিভিত্তিক দৈনিক পত্রিকা দৈনিক গিরি দর্পণ ও সাপ্তাহিক বনভূমিতে (অধুনালুপ্ত)।
১৯৮৪ সালে স্কুল শিক্ষিকা শোভা রানী ত্রিপুরাকে বিয়ে করেন মংছেনচীং মংছিন। এই দম্পতির দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। শোভা রানী নিজেও একজন সাহিত্যিক। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৭ সালে বেগম রোকেয়া পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।