দীর্ঘমেয়াদি মাড়ির রোগে অপূরণীয় ক্ষতি

সাধারণ মানুষের মধ্যে মাড়ির রোগ অতি সাধারণ। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেকের মাড়ি ফুলে যাওয়া, মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, দাঁত নড়ে যাওয়া থেকে শুরু করে নানা ধরনের মাড়ির রোগে ভোগে। মাড়ি রোগের প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করা যায় মুখের যতেœ অসচেতনতাকে। এখন অনেকেই দাঁত পরিষ্কারে সচেতন হলেও নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না এটা বড় প্রশ্ন।

মুখের যত্নে তিনটি বিষয়কে একত্রে মানতে হবে।

১. সঠিক নিয়মে দাঁতের সকল পৃষ্ঠ পরিষ্কারের পাশাপাশি ফ্লস ব্যবহার, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে মাউথ ওয়াশ ব্যবহার।

২. মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের পরিবর্তে স্বাস্থ্যবান্ধব খাবারে উৎসাহী হওয়া।

৩. ছয় মাস অন্তর অনুমোদিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

এরপরেও যাদের মুখ শুষ্ক থাকে, এলোমেলো দাঁত, কিছু ওষুধের পার্শ্বপতিক্রিয়া, লিভারের রোগ, ভিটামিন বা মিনারেলের স্বল্পতা, রক্তস্বল্পতা, রক্তের রোগ ইত্যাদিতে মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে।

বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না, কারণ বেশিরভাগ মানুষের ধারণা নেই, মাড়ি রোগ যেমন শরীরের অন্যান্য অঙ্গে রোগ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যাদের শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তেমনি অনেক রোগের প্রাথমিক লক্ষণের জানান দেয়। যেমনÑ

দাঁতের ধারক কলা ক্ষতিগ্রস্থ :

দাঁত নড়ে যাওয়া, পড়ে যাওয়া, মুখে দুর্গন্ধ থেকে শুরু করে মুখ ফুলে যাওয়া ও চোয়ালের হাড় ক্ষয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মাড়ি রোগ অনেকটা দায়ী। কামড় দিলে দাঁতে ব্যথা অনুভবের কারণে মাড়ি রোগ নিয়ে রোগীরা সঠিকভাবে খেতে পারে না, ফলে নানা অপুষ্টিজনিত জটিলতা হতে পারে।

হৃদরোগ : মাড়ির সংক্রমণ সহজেই রক্ত বাহিকাতে মিশে হার্টে চলে যেতে পারে। ব্যাকটেরিয়াল এন্ডোকার্ডাইটিস তৈরির জীবাণু ও মুখের অভ্যন্তরের জীবাণু এক প্রজাতির। অথচ হার্ট সুস্থ রাখতে রাখতে আমরা অন্যান্য কারণ জানলেও মুখের যতেœ অসচেতন।

স্ট্রোক : মাড়ি রোগের ক্ষতিকারক পদার্থ রক্ত সঞ্চালন নালিকে সরু করে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ কমিয়ে স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়াতে পারে।

অপরিণত শিশুর জন্ম : গর্ভকালীন দাঁতের ব্যথা ও মাড়ি রোগ থেকে গর্ভ জটিলতা, অপরিণত বা বিকলাঙ্গ শিশুর জন্মসহ নানা সমস্যা তৈরি করতে পারে।

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস : মাড়ি রোগ ডায়াবেটিস ওষুধ ও ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়িয়ে নানা জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।

হাড় ক্ষয় :  হাড়ের জয়েন্টে ক্ষয় ও ব্যথা, মেরুদণ্ডে ব্যথাসহ নানা হাড় ক্ষয়ের জন্য মাড়ির রোগও একটি কারণ।

ফুসফুসে জটিলতা : মাড়ির সংক্রমণ আমাদের শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে, ফুসফুসকে সংক্রমিত করতে পারে।

ক্রনিক কিডনির অসুখ, অগ্ন্যাশয়ের জটিলতাসহ কিছু ক্যানসারের সঙ্গেও মাড়ি রোগের যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন চিকিৎসা গবেষকরা। সুতরাং মাড়ি রোগ নিয়ে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।

দেশের অনুমোদিত ডেন্টাল চিকিৎসকদের মাড়ি রোগ বিষয়ে আরও আধুনিক ধারণা দিতে বর্তমান সময়ের অন্যতম ডেন্টাল সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ডেন্টাল সায়েন্স চলতি বছরের ৪ অক্টোবর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ডেন্টাল সেমিনারের আয়োজন করেছে, এমন আয়োজন দেশের চিকিৎসা সেবার মানকে আরও উন্নত থেকে উন্নততর করবে।

ডা. মো. আসাফুজ্জোহা রাজ

রাজ ডেন্টাল ওয়ার্ল্ড , ধানমণ্ডি-১৩

রাজ ডেন্টাল সেন্টার, কলাবাগান

সদস্য সচিব, বিএফডিএস

০১৯১১ ৩৮৭২৯১