বাংলাদেশকে লজ্জায় ডুবিয়ে আফগানিস্তানের ইতিহাস

প্রথম দুই সেশনের প্রায় পুরোটাই বৃষ্টির পেটে গেলেও চট্টগ্রাম টেস্টে হারের লজ্জা থেকে বাঁচতে পারল না বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসানদের হারিয়ে ঐতিহাসিক এক জয় তুলে নিল আফগানিস্তান।

টাইগারদের হার এমনিতেই অবধারিত ছিল। বৃষ্টি সেটাকে বিলম্বিতই করল শুধু। সারাদিনে সাকুল্যে ১৭.২ ওভার খেলার সুযোগ করে দিল বৃষ্টি। তাতেও লজ্জার হার থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে সৌম্য সরকার আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লজ্জায় অধোবদন হলো বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের কাছে হেরে গেল ২২৪ রানে।

প্রথম সাক্ষাতেই বাংলাদেশকে হারিয়ে ঐতিহাসিক এক জয়ই পেল আফগানরা। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর তিন ম্যাচ খেলে দুটিতেই জয় পেল রশিদ খান, আসগর আফগানরা। দ্বিতীয় জয় পেতে মাত্র ৩ টেস্ট সময় লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ডে ভাগ বসাল দেশটি।

৩৯৮ রানের বিশাল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ সামনে। যে লক্ষ্য তাড়া করে জিততে হলে ইতিহাস গড়তে হতো টাইগারদের। তবে সেই সম্ভাবনা আগেরই দিনই ভেস্তে গিয়েছিল মাত্র ১২৫ রানে ৬ উইকেট হারানোয়।

শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৩৬ রানে দিন শেষ করে বাংলাদেশ ছিল মিরাকল কিছুর প্রার্থনা। মিরাকল না বলে বৃষ্টির দিকেই যে তাকিয়ে ছিল এ কথা বলাই যায়। মজা করে বললেও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও তো সেটিই বলেছিলেন আগের দিন।

আর আফগানরা তৃতীয় দিন থেকেই বৃষ্টি নিয়ে ভয় পাচ্ছিল। কারণ তাদের জয় পাওয়ার মাঝে বাঁধা হতে পারত শুধু বৃষ্টিই। শেষ পর্যন্ত সোমবার বৃষ্টি কি ভোগান্তিই না ভোগাল দলটিকে। আর বাংলাদেশের সামনে এই ম্যাচ ড্র করার সুযোগটাও এনে দিল।

কিন্তু শেষ বিকেলে যখন খেলা শুরু হলো সাকিব আল হাসান ফিরলেন প্রথম বলেই। ৪৪ রান করে জহির খানের শিকার তিনি। সৌম্য সরকারের সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজ আশা দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু একবার জীবন পেয়েও ১২ রানেই ফেরেন তিনি রশিদ খানের শিকার হয়ে।

তাইজুল রানের খাতা খোলার আগেই শিকার রশিদের। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫ উইকেট পূরণ করে ইতিহাসে নাম খেলান রশিদ। অধিনায়কত্বের অভিষেকেই দুই ইনিংসে ৫ উইকেট ও ফিফটির কীর্তি নেই কারো। পরে সৌম্যকে ফিরিয়ে রশিদই এনে দিয়েছেন আফগানদের বিজয় মুহূর্ত। সৌম্য ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি।

দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানদের পক্ষে ৬ উইকেট নেন রশিদ। ৩ উইকেট নিয়েছেন জহির খান। ম্যাচসেরা হয়েছেন ইতিহাস গড়া রশিদ খান।