টাইলস রপ্তানির নামে ও জালিয়াতি করে প্রায় ৩২৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এসবি এক্সিম নামক কোম্পানির দুই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলছে, এসবি এক্সিমের মালিক শাহজাহান বাবলুসহ ৫ জন কমার্স ব্যাংকের ২৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অবৈধভাবে বিদেশ থেকে ১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৯০ কোটি টাকা) পাচার করেছে। গ্রেপ্তাররা হচ্ছেÑ কোম্পানির কমার্শিয়াল অফিসার মো. ইমরান মীর (৩৭) ও ম্যানেজার মো. ইউসুফ হোসেন রোবেল (৪২) । গত রবিবার রাজধানীর শান্তিনগর এলাকা থেকে সিআইডি তাদের গ্রেপ্তার করে। একই দিন মতিঝিল থানায় করা মামলায় গতকাল সোমবার আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, এসবি এক্সিম বাংলাদেশ নামে একটি প্রতিষ্ঠান ও কমার্স ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজশে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শাহজাহান বাবলুসহ পলাতক তিনজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সিআইডির একাধিক কর্মকর্তা জানান, মো. শাহজাহান বাবলুর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসবি এক্সিম বাংলাদেশ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের আমদানিকারকদের কাছে মাটির টেরাকোটা টাইলস রপ্তানির নামে বিদেশি পাঁচটি শেল ব্যাংক কর্র্তৃক ইস্যুকৃত ৭২টি এলসির (ঋণপত্র) বিপরীতে রপ্তানি না করেই প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮৮টি রপ্তানি বিলের প্রায় ২৩৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ মাতুয়াইলে এসবি এক্সিমের কার্যালয় এবং কারখানা হিসেবে ঝিনাইদহের বিসিক শিল্প এলাকার বি-১৪-১৯ নম্বর দেখিয়ে এলসি খোলা হলেও ঝিনাইদহের বিসিককে এই নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব না থাকলেও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে কমার্স ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন, বাইরে থেকে অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন ও হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গতকাল সিআইডির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শাহজাহান বাবলু টেরাকোটা টাইলস রপ্তানির বিপরীতে ব্যাংকে এক্সপোর্টার রিটেনশন কোটা অ্যাকাউন্ট থেকে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রমোশনের জন্য বিদেশে অবস্থিত অফিসের সরঞ্জামাদি ও সাজসজ্জার কথা বলে সিঙ্গাপুরের পুণ্য গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের নামে সিঙ্গাপুরের আরএইচবি ব্যাংক বারহাটের প্রধান শাখার অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার, সিঙ্গাপুরের পুণ্য সুপার মার্কেট প্রাইভেট লিমিটেডের নামে একই দেশের ওভারসি-চাইনিজ ব্যাংকিং করপোরেশনের অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলারসহ সর্বমোট ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কির ডলার ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় বিদেশে পাচার করেছে। সে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বিদেশে ৫টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে মূলধন বিনিয়োগের কথা বলে অর্থ পাচার করেছে। অভিযুক্ত শাহজাহান বাবলুর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিল থানায় দুর্নীতি দমন আইনেও মামলা রয়েছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।