ফেইসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে প্রচার ছাত্রদল প্রার্থীদের

আর চার দিন পর বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল। ২৭ বছর পর ১৪ সেপ্টেম্বর, শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠেয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীরা। তারা সারা দেশের কাউন্সিলরদের দ্বারে দ্বারে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি সংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার বিলি করছেন। প্রচারে প্রার্থীরা ব্যবহার করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম ফেইসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইউটিউব। গতকাল সোমবার ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে আলাপ করে এসব কথা জানা গেছে।

এদিকে জায়গার অনুমতি না পাওয়ায় ছাত্রদলের কাউন্সিল নিয়ে যে শঙ্কা ছিল, তা কেটে গেছে। কাউন্সিল পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাউন্সিলের জন্য জায়গার অনুমতি পাওয়া গেছে। আগামী শনিবার রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল হবে। এর আগে আগামীকাল বুধ ও আগামী বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কাউন্সিলরদের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা ১২ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে তাদের কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। এবার সভাপতি পদে ৯ ও সাধারণ সম্পাদক পদে ১৯ জন ভোটযুদ্ধে নামছেন।’

ছাত্রদলের সভাপতি পদে লড়াইয়ে এগিয়ে থাকা কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রদলের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন জোরদার করা, লন্ডনে অবস্থানরত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আগামী দিনে আন্দোলন-সংগ্রাম জোরদার করার অঙ্গীকার থাকছে তার নির্বাচনী ইশতেহারে। সভাপতি পদের প্রার্থী হাফিজুর রহমান হাফিজ এরই মধ্যে অদম্য-১৯ নামে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করেছেন। এতে তিনি বিএনপির ১৯ দফা পরিকল্পনার আলোকে ১৯টি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সব পর্যায়ে ছাত্রদের দিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদলের কমিটি গঠন, কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ দুই বছরমেয়াদি ও অন্যান্য ইউনিটে এক বছরমেয়াদি কমিটি প্রণয়ন ও প্রতিটি ইউনিটে ছাত্রী প্রতিনিধি রাখা।

সভাপতি প্রার্থী মো. এরশাদ খান ১১ দফা ইশতেহার দিয়েছেন। তার প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্র রাজনীতিকে ক্যাম্পাসমুখী করা, ছাত্রদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র তহবিল গঠন, ছাত্রদলের যেসব নেতাকর্মী গুম হয়েছেন, মামলায় জর্জরিত, তাদের মুক্তির ব্যবস্থার জন্য আলাদা লিগ্যাল সেল গঠন।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শাহ নেওয়াজ এরই মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার দিয়েছেন। তার ইশতেহারে উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিএনপি ঘোষিত ভিশন-২০৩০ প্রচার, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা, সংগঠনকে গণতন্ত্রের ‘রোল মডেল’ হিসেবে গড়ে তুলতে সব ইউনিটে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন, প্রশ্নপত্র ফাঁস-ভর্তিবাণিজ্য বন্ধ, শিক্ষা উপকরণের দাম কমানো, শিক্ষার্থীদের আবাসিক সংকটের সমাধান, হত্যা-গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, আন্দোলন করতে গিয়ে যারা মামলার আসামি হয়েছেন, তাদের জন্য আইনি সহায়তা কমিটি করা।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সাইফ মাহমুদ জুয়েল তার নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেন, তিনি সাধারণ সম্পাদক হতে পারলে সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সফলতার জন্য পুরস্কার ও ব্যর্থতার জন্য তিরস্কারের ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া, তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদের নিয়ে কমিটি গঠন, কমিটির নেতাদের কাছে থেকে নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করে স্বচ্ছতার সঙ্গে সংগঠনের কাজে ব্যয় করা, নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সহায়তায় আইনি সহায়তা কেন্দ্র করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেবেন।

সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী আমিনুর রহমান আমিন তার ইশতেহারে ছাত্রদলকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্ভর না করে কমিটির সবাইকে নিয়ে সংগঠন পরিচালনা করা, মাদকমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, সংগঠন গতিশীল করতে নিয়মিত কর্মিসভা, সব পর্যায়ে ছাত্রদের দিয়ে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন গণমুখী পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদের একমাত্র নারী প্রার্থী ডালিয়া রহমান বলেন, সাধারণ সম্পাদক পদে কাউন্সিলদের ভোটে নির্বাচিত হলে সংগঠনকে ঢেলে সাজানো হবে। তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন, আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চান।

১৯৯২ সালে সর্বশেষ হওয়া ছাত্রদলের পঞ্চম কাউন্সিলে সরাসরি ভোটে বিএনপির বর্তমান জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও গুম হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৯ সালে ভোট হচ্ছে। ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দেশের ১১৭ ইউনিটের ৫৩০ জন ভোটার নতুন নেতা নির্বাচন করবেন।

এবার সভাপতি পদে লড়ছেন কাজী রওনকুল ইসলাম, ফজলুর রহমান, মামুন বিল্লাহ ওরফে মামুন খান, মাহমুদুল হাসান, হাফিজুর রহমান, রিয়াদ মো. তানভীর রেজা, এরশাদ খান, এস এম সাজিদ হাসান ও এ বি এম মাহমুদ আলম সরদার।

সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন জুয়েল হাওলাদার, জাকিরুল ইসলাম, কারিমুল হাই, মাজেদুল ইসলাম, ডালিয়া রহমান, আমিনুর রহমান, শেখ আবু তাহের, শাহ নাওয়াজ, সাদিকুর রহমান, কে এম সাখাওয়াত হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, মো. হাসান, মুন্সি আনিসুর রহমান, মিজানুর রহমান, শেখ মো. মশিউর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, সোহেল রানা ও কাজী মাজহারুল ইসলাম।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একাধিক নেতাকে সতর্ক : গত শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর তারেক রহমান নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সময় কমিটির সদস্যদের সতর্ক করে দেন তিনি। পরে গত রবিবার রাতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠায়। এতে বলা হয়, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কেউ কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।