বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বৈরাচার এরশাদকে সঙ্গে নিয়েই গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিলেন। গতকাল সোমবার জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেন, ‘এরশাদকে ক্ষমতা দখল করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।’ এ বক্তব্য অসত্য দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে এ ধরনের অসত্য কথা প্রায়ই বলেন। যে কথাগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় না। বরং সত্য হচ্ছে এটাই যে, একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে এরশাদ যখন রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভারত সীমান্তে বলেছিলেন, “আই অ্যাম নট আহ হ্যাপি।’ তার মানে তিনি অখুশি নন। তিনি বলেন, পরবর্তীকালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এরশাদকে সঙ্গে নিয়েই দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করেছিলেন। এরশাদের গৃহপালিত বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছিলেন। মৃত্যুর আগে এরশাদ ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর গৃহপালিত বিরোধীদলীয় নেতা। এরশাদের মৃত্যুর পর রওশন এরশাদ এখন এ সরকারের গৃহপালিত বিরোধীদলীয় নেতা।
জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, নব্বইয়ে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজকে গণতন্ত্রের সেই অগ্রসেনানীকে অবৈধ দখলদার সরকার কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। আজকে তিনি অত্যন্ত অসুস্থ।
‘জনগণের ভোটে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন জিয়া’ : গতকাল নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহিলা দল আয়োজিত মানববন্ধনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ভোট ডাকাতি করে নয়, জনগণের ভোটে রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, যারা শহীদ জিয়াকে অবৈধ বলেন, তাদের মনে দুর্বলতা রয়েছে। এ সরকার অনির্বাচিত, রাতের আঁধারে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় টিকে আছে।