ইসিতে আগুন শর্টসার্কিটে ক্ষতি পৌনে ৪ কোটি টাকা

বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে নির্বাচন ভবনে আগুনের সূত্রপাত ও এতে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ২১ হাজার ১৬৯ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে কমিশনের সচিব মো. আলমগীরের কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেন তদন্ত কমিটির প্রধান ইসির অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমান। পরে তদন্ত কমিটির প্রধান মো. মোখলেসুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। আমরা আজ (বৃহস্পতিবার) কমিশনের সচিবের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। তদন্তে ইলেকট্রিক শর্টসার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের বিষয়টি উঠে এসেছে। আর্থিকভাবে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ২১ হাজার ১৬৯ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

গত রবিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে নির্বাচন ভবনের বেজমেন্টে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত সচিব মোখলেসুর রহমানকে প্রধান করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি করে ইসি।

ইসির সহকারী সচিব (সেবা-২) খ ম আরিফুল ইসলাম কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। অন্য সদস্যরা হলেনÑ জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, গণপূর্তের ই/এম বিভাগ-৮-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হালিম, গণপূর্ত বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ ইয়ামিন-উল-ইসলাম এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের প্রতিনিধি। তিনটি বিষয়ে কমিটিকে তিন কার্যদিবসে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। সেগুলো হলো অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও উৎস নির্ণয়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ (আর্থিক মূল্যসহ) এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঠেকাতে সুপারিশ।

তদন্ত কমিটির প্রধান মোখলেসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বেজমেন্টের যে কক্ষটিতে আগুন লেগেছিল সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বারবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে, কক্ষটির একাংশে বৈদ্যুতিক লাইনে স্পার্কিং হচ্ছে। বেশ কয়েকবার স্পার্কিং হয়ে আগুন ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এরপর আগুন ছড়িয়ে পড়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া বেশকিছু সুপারিশ জমা দিয়েছি। বৈদ্যুতিক যে লাইন রয়েছে সেখান থেকে যদি কেউ সাবলাইন নেয় তাহলে অবশ্যই গণপূর্ত বিভাগের পিডব্লিউডির ইলেকট্রিক ম্যানেজমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে নেয়।’

ক্ষয়ক্ষতির হিসাব : তদন্ত কমিটি ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসাব তুলে ধরে প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে ইভিএম কন্ট্রোল ইউনিট ৫৯টি, ব্যাটারি ৪৭টি, ব্যালট ৭৮৯, মনিটর ১ হাজার ২৩৩ হাজারটি, কেব্ল ৫৫৭ সেট, মনিটরের ব্যাটারি ৬৪টি, ল্যাপটপ একটি ও বার কোড স্ক্যানার দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ২১ লাখ ২৮ হাজার ৪৮৩ টাকা।

অন্যান্য কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রীও ছিল তার মধ্যে এসি ছিল ৯টি, সিলিং লাইন ৪৮টি, একটি প্রজেক্টর, হুইল চেয়ার ও অটবি চেয়ার ১৬টি, টেবিল তিনটি, ঘড়ি একটি, সুইচ বোর্ড ১৪টি, বিভিন্ন রকমের ৯টি প্লাগ, ওয়্যারিং চ্যানেল ২ হাজার ফিট, ফ্লোর টাইলস ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মূল্য ৪০ লাখ ৪৫ হাজার ৭০০ টাকা। পূর্ত ক্ষতি ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৯৮৬ টাকা। সব মিলিয়ে ক্ষতি ৩ কোটি ৭৭ লাখ ২১ হাজার ১৬৯ টাকা।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি গত মঙ্গলবার প্রথম ও বুধবার দ্বিতীয় সভা করে। গতকাল বিকেলে তৃতীয় সভা শেষে কমিটি ইসি সচিবের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে।