কারাগারে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৮৪ জন বিদেশি বন্দিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠিয়েছে কারা অধিদপ্তর। চিঠি পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ওই বন্দিদের নিজ নিজ দেশের দূতাবাসে চিঠি দিয়ে তাদের ফেরত নিতে বলেছে। এই বন্দিদের মধ্যে ভারতের ৭২, মিয়ানমারের ৬, পাকিস্তানের ৩, নেপালের ২ এবং পেরুর ১ জন রয়েছেন। কারা অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (কারা অনুবিভাগ) সৈয়দ বেলাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদেশি কোনো কারাবন্দির যখনই সাজার মেয়াদ শেষ হয় তখন কারা অধিদপ্তর থেকে আমাদের কাছে ওই বন্দির বিস্তারিত তথ্যসহ তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য চিঠি দেয়। আমরা ওই চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাই। তারা সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। এ পর্যন্ত প্রায় একশোর মতো বন্দি ফেরত পাঠানোর জন্য কারাগার থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা সেগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কারাবন্দিদের মধ্যে যেসব বিদেশি নাগরিকের মামলা নিষ্পত্তি ও আদালতে দেওয়া সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে তাদের “আরপি” বন্দি বলা হয়। আরপি বন্দিদের ফেরত পাঠানোর জন্য কারা অধিদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর ওইসব বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হবে।’
কারা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া নথি অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের কারাগারগুলোতে বিশ্বের ১৮টি দেশের ৫১৯ জন নাগরিক বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে ৮৪ জনের। বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত (কয়েদি) হয়ে দণ্ড ভোগ করছেন ৫৪ জন। আর বিভিন্ন মামলার আসামি হিসেবে হাজতি বন্দি আছেন ৩৮১ জন।
কারাবন্দিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মিয়ানমারের নাগরিক। দেশের বিভিন্ন কারাগারে মিয়ানমারের ২৮১ জন বন্দি আছেন। তাদের মধ্যে হাজতি ২৪৯, সাজাপ্রাপ্ত ২৬ ও সাজার মেয়াদ শেষ হওয়া বন্দি ৬ জন। কারাগারগুলোতে ভারতের বন্দি আছেন ১৬৬ জন। ৮১ ভারতীয় নাগরিক বিভিন্ন কারাগারে হাজতি বন্দি হিসেবে আছেন। কয়েদি আছেন ১৩ জন ও সাজার মেয়াদ শেষ হওয়া বন্দি আছেন ৭২ জন। কারাগারগুলোতে মোট ২৮ পাকিস্তানি নাগরিক বন্দি হিসেবে আছেন। এদের মধ্যে হাজতি ১৬, কয়েদি ৯ ও সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩ জনের।
আরও জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন কারাগারে পেরুর নাগরিক ২ হাজতিসহ ৩ জন, আলজেরিয়ার ১ হাজতি, তানজানিয়ার ২ কয়েদি ও ২ হাজতি, নাইজেরিয়ার ৯ হাজতি, স্পেনের ১ হাজতি, ক্যামেরুনের ৬ হাজতি, জার্মানির ১ হাজতি, মালয়েশিয়ার ৩ কয়েদি ও ৪ হাজতি, জাপানের ৩ হাজতি, কঙ্গোর ২ হাজতি, সোমালিয়ার ১ কয়েদি, যুক্তরাষ্ট্রের ১ কয়েদি এবং উগান্ডার ২ ও মোজাম্বিকের ১ হাজতি বন্দি রয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, মিয়ানমারের যেসব নাগরিক বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি হিসেবে আছে তাদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা। তাদের আবার বড় একটি অংশ ইয়াবা বহনসহ বিভিন্ন মাদক মামলার আসামি হিসেবে বন্দি আছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সাজার মেয়াদ শেষ হওয়া যেসব ভারতীয় নাগরিক বন্দি হিসেবে আছে তাদের বেশিরভাগই অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশসহ বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে তারা আটক হয়ে কারাবন্দি হিসেবে আছে। সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নানা জটিলতায় তাদের ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না।