রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে জোর দিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেছেন, রোহিঙ্গা নিয়ে আমাদের বিরাট সমস্যা হবে। ১২-১৪ লাখ রোহিঙ্গার দেখাশোনা আমরা করব কীভাবে? তারা মাদক বিক্রি করছে, ইয়াবা বিক্রি করছে। পাসপোর্ট করে বিদেশ যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রাখা যাবে না। তাহলে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এখন সময় হয়েছে তাদের চলে যাওয়ার। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফিরে যেতে হবে। যেমন করেই হোক তাদের ফেরত পাঠাতেই হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদের সরকারি দলের প্রধান হুইপের মন্ত্রীর মর্যাদা এবং হুইপদের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার মতো বিরোধী দলের হুইপ ও প্রধান হুইপদেরও মূল্যায়ন করার আহ্বান জানান রওশন এরশাদ।
কূটনীতিকদের অর্থনৈতিক কাজে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা এর মাধ্যমে আরও অনেক জিনিস রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। এ ছাড়া পোশাক খাত আরও জোরদার করার পাশাপাশি বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর কথা বলেন তিনি। গ্যাসের মূল্য বাড়ানোয় জনগণের অনেক সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কারণ মানুষ নিজ দেশের জিনিসের বেশি দাম দিতে চায় না।
গুজব সম্পর্কে তিনি বলেন, আসল কথা না জেনেই মানুষ পিটিয়ে হত্যা করছে। কিন্তু আইন হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন করতে হবে।
কিশোর গ্যাং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এরা সন্ত্রাসী হচ্ছে। গুণ্ডামি করছে। মাদক নিচ্ছে। মাদক এখানে সেখানে পৌঁছায় দিচ্ছে। ওরা যদি গ্যাংয়ে রূপান্তরিত হয় তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। যারা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছে তাদের আবার স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। আরেকটি কাজ করতে হবে সেটা হলো শিশুশ্রম দূর করতে হবে। পরিবার ছাড়া এই গ্যাং কালচার দূর হবে না। এ ব্যাপারে প্রথমেই পিতা-মাতাকে সচেতন হতে হবে। ঝরে পড়া সন্তানদের দিকে নজর রাখলে তারা জঙ্গি হতে পারবে না। খেলাধুলার প্রতি যদি তাদের আনা যায় তাহলে তাদের এসব বন্ধ হবে।
ডেঙ্গুর ভয়াবহতার কথা বর্ণানা করে রওশন বলেন, যদি আমরা নিজেরা সচেতন হতাম তাহলে মানুষদের বাঁচাতে পারতাম। আমাদের দেশটাকে পরিষ্কার রাখতে হবে। ময়লা যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মা আবার ফিরে আসবে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে। পাহাড়ি এলাকায় ম্যালেরিয়া দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে এখন থেকেই যদি সচেতন না হই তাহলে ম্যালেরিয়া ভীষণ আকার ধারণ করবে। এটা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বলা হচ্ছে। যক্ষ্মা থেকে বাঁচার জন্য আগে থেকেই প্রতিরোধী ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সচেতন হলে এসব রোগ থেকে জনগণক বাঁচাতে সক্ষম হব।