চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৬৫৩ জন শিশু ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হয়েছে, যা গড়ে মাসে ৪৫৭ জন। বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে উদ্বেগজনক জানিয়ে বলছেন, বিচারহীনতা, সামাজিক-পারিবারিক জটিলতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে শিশুর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। শিশুর প্রতি এ বছরের সহিংসতার হার গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের আইপিডি সম্মেলন কক্ষে চাইল্ড রাইট অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ (সিআরএসিবি) আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংগঠনের পক্ষে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেনের চাইল্ড রাইটস গভর্নমেন্ট প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাশেদা আক্তার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর গড়ে প্রতি মাসে ৩৮১ শিশু সহিংসতার শিকার হয়। কিন্তু চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত গড়ে প্রতি মাসে ৪৫৭ শিশুর প্রতি সহিংসতা হয়েছে। এদের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬৯৭, ধর্ষণচেষ্টা ১০৪, যৌন হয়রানির শিকার
১৬১, হত্যার শিকার ২৮৫, আত্মহত্যা ১৩৩, অপহরণের শিকার ১৪৫, নিখোঁজ ১০৪, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৯০ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৯২ জন শিশু। এর বাইরে পানিতে ডুবে ৩৯৫ জন শিশু নিহত হয়েছে।
রাশেদা আক্তার বলেন, ‘৭ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরাই বেশি সহিংসতার শিকার। আইন ও সালিশ কেন্দ্র ৫ বছরের পরিসংখ্যানে ধর্ষণের শিকার ৯০ শতাংশই শিশু ও কিশোরী উল্লেখ করেছে। আর ২০০২ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ১৫ বছরে ঢাকার ৫টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণসংক্রান্ত ৫ হাজার মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া মামলায় মাত্র ৩ শতাংশের সাজা কার্যকর হয়েছে।’
সভায় শিশু অধিকারবিষয়ক সংসদীয় কমিটি ককাসের কাছে বিদ্যমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে একটি সুপারিশ তুলে ধরে সিআরএসিবি। এতে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিচার এবং শিশু নির্যাতনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, ‘শিশুদের প্রতি জাতির জনকের অবদান আমরা আজও ছাপিয়ে যেতে পারিনি। বঙ্গবন্ধু বলতেন ‘শিশু বাঁচলে জাতি বাঁচবে’। তাই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে দেশের শত্রু চিহ্নিত করে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’
ককাসের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শামসুল হক টুকু বলেন, শিশু নির্যাতনরোধে পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলতে হবে। এ জন্য ককাস থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে। সভায় বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত, উম্মে সাদিকা নাজমা প্রমুখ।