রাজধানীর কদমতলীতে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। গত বৃহস্পতিবার তিন ভাইবোনকে রেখে মুন্সীগঞ্জ পীরের দরবারে যান বাবা-মা। পরের দিন বাসায় ফিরে দেখেন তার মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়ে গুরুতর অবস্থায় পড়ে আছে। শিশুটি তার বাবা-মাকে জানায় মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি তাকে নির্যাতন করেছে।
গতকাল শুক্রবার শিশুটির চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। মা-বাবার অনুপস্থিতিতে ওই শিশু বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে।
কদমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তোফায়েল আহম্মেদ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসার জন্য ওসিসিতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ধর্ষণকারীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
শিশুটির মা দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা কদমতলীর ওয়াসা রোড এলাকার একটি টিনশেড বাসায় ভাড়া থাকেন। তাদের তিন
মেয়ে ও এক ছেলে। সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনায় বৃহস্পতিবার সকালে মুন্সীগঞ্জে এক পীরের দরবারে যান। এ সময় ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যান। বড় মেয়েসহ দুই মেয়ে ও ছেলে তখন বাসাতেই ছিল। শুক্রবার সকালে বাসায় ফিরে দেখেন মেয়ে বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় অচেতন হয়ে পড়ে আছে। তার জামাকাপড় রক্তে ভেজা। স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নেওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসায় তার জ্ঞান ফেরে। ওই ফার্মেসি থেকে শিশুটিকে থানায় নেওয়া হয়। থানা থেকে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য ওসিসিতে পাঠানো হয়।
বাবা বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ১১ বছরের শিশুটি ঘর থেকে বেরিয়ে টয়লেটে যায়। ফিরে এসে বাসার দরজা বন্ধ না করেই ঘুমিয়ে পড়ে। মাঝরাতে মধ্য বয়সী এক ব্যক্তি ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) বাচ্চু মিয়া জানান, শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন। তার প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়েছে।