রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় কেমিক্যালের গোডাউন থেকে ভয়াবহ আগুন লেগে হতাহতের ঘটনার সাত মাস পেরোলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সরকারের আশ্বাসমতো ক্ষতিপূরণ বা চাকরি কোনোটাই পায়নি। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনায় গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর অগ্নিকাণ্ডের উৎপত্তিস্থল ওয়াহেদ ম্যানশনের সামনে চুড়িহাট্টা একতা সংঘের ব্যানারে এক মানববন্ধন করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। এ সময় তারা
ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার অন্য দেশের ১০-১১ লাখ রোহিঙ্গাকে দেখভাল করতে পারলেও দেশের ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারকে সেটা করছে না।
চুড়িহাট্টা একতা সংঘের সাধারণ সম্পাদক আশিক উদ্দিন সৈনিক মানববন্ধনে সরকারের কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরে বলেন, ‘গণমাধ্যম থেকে জেনেছি এই দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ৩০ কোটি টাকা জমা হয়েছিল, যার এক টাকাও আমরা পাইনি। এই টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের দিতে হবে। পুরান ঢাকা থেকে সব ধরনের কেমিক্যাল গোডাউন অপসারণ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোয় যেসব বয়স্ক ও বিধবা আছেন তাদের ভাতা দিতে হবে। পরিবারগুলোর একজন করে সদস্যকে চাকরি দিতে হবে। দুর্ঘটনার সাত মাস পেরোলেও দায়ী কেমিক্যাল গোডাউন মালিককে পুলিশ এখনো ধরতে পারেনি। তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্কুল-কলেজ পড়–য়া সন্তানদের বেতন মওকুফের ব্যবস্থা করতে হবে।’
চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডে দুই সন্তানকে হারানো পিতা হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার দুই সন্তানকে হারিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছিলেন পুনর্বাসন করবেন। কিন্তু সাত মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারের কেউই আমাদের খোঁজখবর নিচ্ছে না। আমাদের চলার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের পাশে দাঁড়ান। মেয়রের আশ্বাসে আমার ছোট ছেলের চাকরির জন্য বারবার নগর ভবনে ধরনা দিচ্ছি। আমাকে বলা হচ্ছে চাকরি হয়ে যাবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত নিহতদের একটি পরিবারের সদস্যও চাকরি পায়নি বলে আমি জানি।’
চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় ৭১ জন প্রাণ হারায়। কেমিক্যাল গোডাউন থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের উৎপত্তি হয়েছিল বলে জানা যায়। ঘটনার পর নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে এক লাখ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের চাকরি ও বাসস্থানের আশ্বাস দেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের দেওয়া কোনো আশ্বাস পূরণ হয়নি।