ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় পণ্যটির রপ্তানি নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। এর কৌশল হিসেবে প্রতি টন পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য ৮২৫ ডলার নির্ধারণ করে দিয়েছে দেশটির কাঁচা পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ন্যাপিড। যা আগের রপ্তানিমূল্যের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম আরেক দফা বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে জানানো হয়েছে, গতকাল শুক্রবার দুপুরে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে ন্যাপিড। যা ইতিমধ্যেই রপ্তানিকারক ও বিভিন্ন বন্দরের শুল্ক বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আজ শনিবার থেকেই কার্যকর হবে।
খবরে বলা হয়েছে, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়া সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের আশাÑ পণ্যটির রপ্তানি কমলে অভ্যন্তরীণ খুচরা দামে তার প্রভাব পড়বে।
এদিকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানিকারকরা বলছেন, নির্দেশনাটির কথা শুনেছেন। এক লাফেই দাম দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। আগে যে পেঁয়াজের আমদানিমূল্য টনপ্রতি ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারের মধ্যে ছিল সেখানে এখন ৮২৫ ডলার করা হয়েছে।
ভারতীয় রপ্তানিকারক অনিল ঠাকুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সম্প্রতি ভারতে বন্যার কারণে পেঁয়াজের অনেক ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সরবরাহ কমায় ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। কলকাতার বাজারেই প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ রুপি করে বিক্রি হচ্ছে। এমন অবস্থায় পেঁয়াজ রপ্তানি নিরুৎসাহিত করতে ও স্থানীয় বাজারে পণ্যটির দামে লাগাম টানতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি জানান, ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত নির্দেশনা তাদের হাতে ও কাস্টমসে পৌঁছেছে। শনিবার সকাল থেকেই এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী পুরনো মূল্যে আর কোনো পেঁয়াজ রপ্তানি হবে না।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন ও মামুনুর রশীদ জানান, এতদিন পেঁয়াজ আমদানিতে ন্যূনতম কোনো রপ্তানিমূল্য ছিল না। এই অবস্থায় দেশের বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখতে ও দাম হাতের নাগালে রাখতে বাড়তি দামেই পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। তবে এই বাড়তি দামে অনেক ব্যবসায়ীই পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। এতে দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই পেঁয়াজের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
এদিকে ভারতের এই নির্দেশনা জারির আগেই হিলি স্থলবন্দরে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে আরও দুই টাকা বেড়েছে। এক দিন আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৩৭ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ৩৯-৪২ টাকায়। এই দাম বাড়ানো নিয়ে আমদানিকারক দায়ী করছেন ভারতের বাজারকে। আর পাইকাররা দুষছেন আমদানিকারকদের।
তবে হিলি স্থলবন্দর সূত্র জানায়, ঈদের পর থেকেই হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি কমে যাওয়ায় পণ্যটির বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা করে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।