জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী সুজানা জাফর। গেল ঈদে ‘থাকো মেঘ হয়ে’ শিরোনামের একটি খণ্ডনাটকে দেখা গেছে এ অভিনেত্রীকে। নাটকটিতে তিনি জুটি বেঁধেছেন ইরফান সাজ্জাদের সঙ্গে। এটির নির্মাতা মাহমুদুর রহমান হিমি। এ নাটকের মধ্য দিয়ে দুই বছর পর টিভি নাটকে ফেরেন সুজানা। নাটকটিতে অভিনয় করে সুজানাও বেশ উচ্ছ্বসিত। ঈদে দর্শকের কাছ থেকে নাটকটির জন্য দারুণ সাড়াও পেয়েছেন বলে জানান তিনি। সুজানার ভাষ্য, ‘ঈদে একটি মাত্র নাটকে অভিনয় করেছিলাম। অনেক দিন পর এই নাটকের মধ্য দিয়ে টেলিভিশনের পর্দায় এসেছি। তবে ঈদে দুটি নাটকে অভিনয় করার কথা ছিল। সময় স্বল্পতার কারণে অন্যটি করা হয়নি।’
ঈদের পর এরই মধ্যে মাস পেরিয়ে গেল। সুজানার নতুন কাজের খবর কী? নাকি আবার বিরতি? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আর বিরতিতে যাব না। নতুন কাজ করতে চাই। কিন্তু ঈদের পর আমার ব্যবসা নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছি। তাই নতুন কাজের জন্য সময় দিতে পারছি না। এ ব্যস্ততা থেকে নভেম্বরে ফ্রি হব। আশা করছি সে সময় নতুন কিছু কাজ আবার দর্শকদের উপহার দিতে পারব।’
সমসাময়িকদের চেয়ে সুজানার কাজের সংখ্যা কম কেন? অন্যদের থেকে পিছিয়ে থাকার কোনো কারণ আছে কি? এই প্রশ্নের উত্তরে সুজানা বলেন, ‘অন্যদের থেকে আমি পিছিয়ে নেই। আমার কাজের সংখ্যা কম এটি সত্যি। কিন্তু যে কাজগুলো করেছি তার সব কটি দর্শকের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। প্রশংসিত হওয়ার মতো না হলে বেশি কাজ করে লাভ নেই। আমি ক্যারিয়ারের শুরু থেকে কাজের সংখ্যার দিকে কখনো মনোযোগী ছিলাম না। ভালো কাজ করাই আমার টার্গেট। সেদিক দিয়ে আমি সফলও হয়েছি।’
এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই গ্ল্যামারকন্যাকে দেখা গেছে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী বালামের ‘হঠাৎ’ শিরোনামের একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে। নতুন লুকে এই মিউজিক ভিডিওতে হাজির হয়েছিলেন তিনি। মিউজিক ভিডিওটি দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলে। বিশেষ করে তার হেয়ার স্টাইল সবাইকে চমকে দেয়। এর আগে ২০১৬ সালে সুজানাকে ইমরান ও তাহসানের ‘কেউ না জানুক’ শিরোনামের একটি গানের মিউজিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় সেটিও দারুণ প্রশংসিত হয় দর্শক-শ্রোতার কাছে। সুজানা বলেন, ‘এখন তো অনেকেই নিয়মিত মিউজিক ভিডিওতে কাজ করছে। তাদের চেয়ে আমার মিউজিক ভিডিও অনেক কম। কিন্তু নাটকের মতো এখানেও আমি সবার কাছে প্রশংসা পেয়েছি। যখন যে মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছি, সেটি দর্শকের মনে দাগ কেটেছে।’
অভিনয়ের বাইরে সুজানা ব্যবসাতেও দারুণ মনোযোগী। বনানীর ১১ নম্বর সড়কে ‘সুজানাস ক্লোজেট’ নামে আছে তার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সুজানাকে নিয়মিত পাওয়া যায়। গেল ঈদে ঢাকার কল্যাণপুরে একটি ব্রদ্ধাশ্রম ও চট্টগ্রামে একটি এতিমখানার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। সুজানা নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও একটি এতিমখানা এবং উত্তরার একটি প্রতিষ্ঠানে অটিস্টিক শিশুদের দেখাশোনা করছেন। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ববোধ থেকেই কাজগুলো করি। আমি মনে করি, প্রত্যেকেরই মানুষের জন্য কিছু করা উচিত। মানুষের জন্য মানুষ এগিয়ে না এলে দেশ ও সমাজের পরিবর্তন আসবে না। আমাদের আশপাশে অনেক অনাথ শিশু দেখা যায়। একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তারাও সুস্থভাবে বাঁচতে পারে।’