গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনতে বলার পর তা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। তিনি বলেন, বাজেটে করপোরেট করহার ২ শতাংশ কমানোর পরও সুদহার কমার বদলে বেড়েছে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ঢাকার বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিজনেস এডিটরের সঙ্গে এক মধ্যাহ্ন ভোজ্যসভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ব্যাংক চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ আরোপ করছে। শুধু সরল সুদ আরোপ করলেই সুদহার ২ শতাংশ কমে যাবে। বাজেটে আরোপিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), কর ও শুল্ক পরিশোধ করার পর এত উচ্চহারে সুদ পরিশোধ করা খুবই কঠিন। এতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমছে, পুনঃবিনিয়োগও কমছে। গতবার প্রধানমন্ত্রী ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়ার কদিন পরই দেখা গেল বিভিন্ন অফিসে ব্যাংকগুলো চিঠি পাঠিয়ে জানাচ্ছে যে সুদহার ১ শতাংশ বাড়ছে।
বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে শিল্পের সংযোগে ঘাটতি থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশের প্রায় এক কোটি লোক বিদেশে কাজ করে বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আনছে। অথচ বিদেশের এক লাখ লোক বাংলাদেশে কাজ করে বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে। কারণ, আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মধ্যম সারির ব্যবস্থাপক তৈরি করতে পারছে না। এজন্য এফবিসিসিআই একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, রাজধানীর হাটখোলায় এফবিসিসিআইয়ের ৩৫ হাজার বর্গফুটের ফ্লোর রয়েছে। সেখানে অথবা কোনো ভবন ভাড়া নিয়ে এক বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করা হবে। শুরুতে ৬ মাস বা ৯ মাস মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স থাকবে। পরে পুরোপুরি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচালিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির আচরণগত বিষয়েও পড়ানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট আইনের প্রভাব কতটা পড়বে, তা জানার জন্য দেশের বিভিন্ন নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপকদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করি। কিন্তু তারা বলেছেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কিছু পড়ানো হয় না। অথচ বিকাশমান অর্থনীতির জন্য এগুলো খুবই জরুরি।
কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় কারিকুলাম প্রণয়নসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে লেটার অব এক্সচেঞ্জ হবে।
এফবিসিসিআই একটি টেকনিক্যাল ভোকেশনাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটও গড়ে তুলবে জানিয়ে তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এই ইনস্টিটিউট কাজ করবে। সরকার জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নে যে কর্র্তৃপক্ষ গঠন করেছে, তার সঙ্গে সমন্বয় রেখেই পরিচালিত হবে এই ইনস্টিটিউট।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ২০৪১ সালে ৫০তলা এফবিসিসিআই ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য সরকার থেকে পূর্বাচলে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জমির মূল্য বাবদ একটি কিস্তিও দেওয়া হয়েছে। তবে জমিটি নিয়ে মামলা চলছে।
ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য এফবিসিসিআই একটি এডিআর সেন্টার স্থাপন করবে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে এর অবকাঠামোর কাজ চলছে। জানুয়ারিতে প্রধান আরবিট্রেটর নিয়োগ দেওয়া হবে। ২০২০ সালের প্রথম প্রান্তিকেই এডিআর কাজ শুরু করবে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে এসব বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সিঙ্গাপুর বা প্যারিসে যেতে হয়। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই এডিআর সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে যাতে বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়।
এছাড়া এফবিসিসিআইয়ের গবেষণা সেন্টার আধুনিকায়নের কাজ চলছে জানিয়ে ফজলে ফাহিম বলেন, এফবিসিসিআই ইকোনমিক পলিসি রিসার্চ (ইপিআর) সেন্টারের দক্ষতা বাড়াতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র শিক্ষকদের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ চলছে। দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, নীতি ও পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাব সঠিকভাবে মূল্যায়নে এই সেন্টার কাজ করবে।