সুবিধাবঞ্চিত নারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণের টাকা বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে ‘দুস্থ ঋণের টাকা নেতাদের ঘরে’ শিরোনামে গতকাল শনিবার দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রথম পাতায় খবর প্রকাশের পর দিনাজপুরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে সাধারণ মানুষের মাঝে। অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে তৈরি করা ওই ঋণের সুবিধাভোগীদের তালিকা বাতিলে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি পত্রিকার মাধ্যমে বিষয়টি দেখেছি। চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ইতিমধ্যেই অবহিত করেছি। শনিবার অফিস বন্ধ থাকায় আজ রবিবার এ বিষয়ে অ্যাকশনে যাব।’
চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমি পত্রিকায় নিউজটি দেখেছি। এই তালিকা তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ে আমি ছিলাম না। পত্রিকায় পুরো বিষয়টা দেখে আমিও অবাক হয়েছি। বিষয়টি পর্যালোচনা করে নীতিমালা অনুযায়ী যারা এই ঋণ পাওয়ার কথা তাদেরকেই নতুন তালিকা তৈরি করে এই ঋণ প্রদান করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক মহোদয় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাঠানোর জন্য বলেছেন। আগামীকাল রবিবার (আজ) জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে সকল তথ্য পাঠাব।’
এদিকে ঋণের টাকা বিতরণে অনিয়মের সংবাদটি দৈনিক দেশ রূপান্তরে প্রকাশের পর দিনাজপুরজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়। এই অনিয়মে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চিরিরবন্দর উপজেলার একজন বাসিন্দা বলেন, ‘ঋণ যারা পাওয়ার কথা তারা জানেই না গাভী পালনের জন্য ঋণ দেওয়া হবে। অথচ নেতাকর্মীরা নিজেদের স্ত্রী-সন্তানের নামে এই ঋণ নিয়ে বসে আছেন। যারা এই ঋণ পাওয়ার যোগ্য নয় তাদের নাম বাদ দিয়ে নতুনভাবে তালিকা তৈরি করা উচিত।’
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সমালোচনা চলছে। এ পরিস্থিতিতে ঋণের চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা চিরিরবন্দর উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তরুবালা রায় ওই ঋণ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি জানতাম না গাভী পালন ঋণের তালিকায় আমার নাম আছে। আমি যখন জানতে পারলাম তখন আমার খুব মন খারাপ হলো। আমি এই ঋণ চাইনি। এমপি মহোদয়ের ডিও লেটারে আমার নাম এসেছে বলে আমাকে এই ঋণের চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি অবশ্য এই ঋণ নিয়ে পাড়া-প্রতিবেশী কোনো দুস্থ মহিলাকে দিয়ে দিতাম।’
সুবিধাবঞ্চিত নারীদের ঋণ নেতাকর্মীদের পাওয়ার বিষয়ে দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে সকল নেতাকর্মী তাদের স্ত্রীর নামে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের প্রকল্পের টাকা নিজেদের নামে নিয়েছেন তারা দেউলিয়া। এই সকল অসৎ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে আসেন নাই! তারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে ব্যর্থ করার জন্য দলে ভিড়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে সকল সচ্ছল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী তাদের স্ত্রী-কন্যার নামে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের ঋণ গ্রহণ করছেন তারা প্রকৃতপক্ষে দলের জন্য কাজ করেন না। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য কাজ করেন। যারা প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত নারী তারাই যেন এই ঋণটা পায় সেদিকে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।’