শীতকাল এলেই রাজধানী ঢাকার আবাসিক এলাকাগুলোতে দেখা দেয় গ্যাস সংকট। সে সময় গ্রাহকদের মূল ভরসা সিলিন্ডার গ্যাস। এতে করে নগদ টাকায় সিলিন্ডার কেনার পাশাপাশি লাইনের গ্যাসের বিলও পরিশোধ করতে হয় তাদের। ফলে জীবনযাপনের ব্যয় প্রতিবছর শীতে বাড়তি চাপ পোহাতে হয় তাদের। তবে এ বছর সেই চাপটা একটু আগেভাগেই শুরু হচ্ছে। শীতকাল আসার আগেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে গ্যাস সংকট।
বিশেষ করে ঢাকার নিম্নাঞ্চলগুলোতে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কোনো কোনো এলাকায় মাসখানেক আগে থেকেই দিনের বেলায় গ্যাসের চাপ একেবারেই থাকছে না। গ্যাস সংকটে বাসাবাড়িতে রান্নাবান্নার কাজ সিলিন্ডার ও কাঠের লাকড়িতে করতে হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার মুগদা, আগারগাঁও, দক্ষিণ বাসাবো, নিউ ইস্কাটন, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, গোপীবাগ, স্বামীবাগ, পোস্তগোলা, রাজার দেউড়ি, রাধিকামোহন বসাক লেন, লালবাগ, সোয়ারীঘাট, কামরাঙ্গীরচর, শান্তিনগর, শান্তিবাগ, এস কে দাস রোড, মালাকার টোলা, গে-ারিয়া ও আশপাশের এলাকায় মাঝরাতেও গ্যাস থাকছে না।
বিতরণকারী কোম্পানি তিতাস গ্যাসের সূত্র বলছে, সরবরাহ এলাকায় মোট ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও পাচ্ছে ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ ছাড়া সরবরাহ এলাকায় নতুন নতুন শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য নতুন করে চাহিদা তৈরি হয়েছে আরও ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। সব মিলিয়ে চাহিদার তুলনায় তিতাসের ঘাটতি প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
গত এক বছরের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের এপ্রিল থেকে দৈনিক ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট আমদানিকৃত এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। আর চলতি বছরের এপ্রিল থেকে বেসরকারি কোম্পানি সামিট গ্রুপ আরও ৩০০ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে। তবে সেই গ্যাসের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস ঢাকার সরবরবাহ লাইনে যোগ করতে পারেনি তিতাস।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পরিচালক (অপারেশন) কামরুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, যতটুকু এলএনজি পাওয়ার কথা ছিল, সেটা হয়নি। এতে কিছুটা সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। জিটিসিএলের নির্মাণাধীন গ্যাস সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ হলে ডিসেম্বর থেকে দৈনিক ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ হবে জাতীয় গ্রিডে। এতে ঢাকার সমস্যা কমবে। আগের বছরগুলোর তুলনায় আসছে শীতে রাজধানীর গ্যাস সংকট কম থাকবে বলেও জানান তিতাস গ্যাসের এই কর্মকর্তা।
পেট্রোবাংলার তথ্য মতে, বর্তমানে সারা দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বার্ষিক এই ব্যবহার গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ১ ট্রিলিয়ন ঘনফুটে। দেশে বর্তমানে গ্যাস মজুদ আছে ১২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। তবে উৎপাদনে ঘাটতি থাকায় ২০১৮ সাল থেকে কাতার থেকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে নানা জটিলতায় ৩০০ মিলিয়ন করে এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে।