‘আল্লাহর পথে যাচ্ছি’ চিরকুট লিখে নিখোঁজ স্কুলছাত্র

সাতক্ষীরা শহরের মনজিতপুর এলাকায় পড়ার টেবিলে ‘আল্লাহর পথে যাচ্ছি’ চিরকুট লিখে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে এক কিশোর। তার নাম মোহায়মিনুল ইসলাম (১৪)। সে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে এশার নামাজ পড়ার কথা বলে সে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে তার পরিবার ও পুলিশ প্রশাসন। তারা মনে করছে, মোহায়মিনুল জঙ্গিপথে জড়িয়ে গেছে।

মোহায়মিনুল তার চিরকুটে লিখেছে, ‘আমাকে খুঁজে লাভ নেই। সত্যের সন্ধানে যাচ্ছি। সত্যের মধ্যে সত্য আছে। কাজের ভেতরে কাজ আছে। সকল জ্ঞানীর ওপরেই তার জ্ঞানীজনের অবস্থান। কেউ জিজ্ঞাসা করিলে বলো, আমি গৃহপলায়ন করি নাই। গৃহত্যাগ করিলাম।’

সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমানের এক মেয়ে ও তিন ছেলের মধ্যে দ্বিতীয় মোহায়মিনুল ইসলাম। শহরের মনজিতপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন মোস্তাফিজুর।

মোহায়মিনুলের বড় ভাই ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আহাদ বলেন, ‘সে অত্যন্ত চুপচাপ স্বভাবের। তার কোনো বন্ধু আছে বলে জানা নেই। দু-একজনের সঙ্গে সে স্কুলে যেত। মাঝেমধ্যে কবিতা লিখত, ধর্মপরায়ণ ছিল। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

মোহায়মিনুলের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার ছেলে হয়তো কোনো চক্রের খপ্পরে পড়তে পারে। পুলিশের সহায়তায় তাকে খোঁজা হচ্ছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সমরেশ কুমার দাশ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মোহায়মিনুল ইসলাম বরাবরই স্কুলে মেধাবী ও ভদ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। শনিবার সকালে স্কুলে এসে মোহায়মিনুলের বাবা জানানোর পর থেকে স্কুলের সবাই চিন্তিত। তার লেখাপড়া, আচরণ ও শৃঙ্খলা সব দিকই ছিল প্রশংসনীয়। ক্লাসে সে প্রথম।

মোহায়মিনুলের শ্রেণিশিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ও স্কুলের বন্ধুরা জানায়, সে কিছুদিন ধরে বন্ধুদের বলছিল আল্লাহর পথে চলো। জঙ্গি বলে কিছু নেই আমি ব্যাপারটা নিয়ে বোঝার চেষ্টা করছি, তোমাদেরও বোঝাব। শিক্ষকরা বলছেন, সে সর্বদা ভালো ছাত্র ও গম্ভীর প্রকৃতির ছিল।

এ ঘটনায় স্কুল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসন। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বললেন, সাতক্ষীরায় জঙ্গি প্রবণতা পুরনো খবর। একজন মেধাবী ছাত্র ‘আল্লাহর পথে যাচ্ছি’ চিঠি লিখে বাড়ি ছাড়ার ঘটনাটি উদ্বেগজনক। তিনি স্কুলে জঙ্গিবাদবিরোধী ক্যাম্পেইন করবেন। তবে তার আগে ছেলেটিকে উদ্ধার করা যায়  কি না, তার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছেন।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বাড়ি ছাড়ার বিষয়টি জানার পর পুলিশ মাঠে নেমেছে। দেশের প্রায় প্রতিটি জঙ্গিবাদী ঘটনায় সাতক্ষীরার ছাত্র-যুবদের সম্পৃক্ত থাকার কারণে এলাকার মানুষ শঙ্কিত। মোহায়মিনুল ইসলামকে উদ্ধার করা না গেলে সেও বড় ধরনের নাশকতামূলক কাজে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতে পারে।