পাবনায় এক নারীকে দল বেঁধে ধর্ষণের পর থানায় বিয়ের ঘটনার সত্যতা পেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি। গতকাল রবিবার রাত ৮টায় পাবনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কবীর মাহমুদ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এর আগে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ নেওয়াজ।
ডিসি কবীর মাহমুদ জানান, সদর উপজেলার দাপুনিয়ায় এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের পর মামলা না নিয়ে থানায় বিয়ে দেওয়া হয়েছেÑ গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ খবরের সত্যতা জানতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তিন সদস্যের তদন্ত দল গত বৃহস্পতিবার থেকে প্রকাশিত খবরের প্রতিটি বিষয় অনুসন্ধান করে ধারাবাহিক দলবদ্ধ ধর্ষণ, মামলার আলামত নষ্ট ও ওসির নির্দেশে থানায় বিয়েসহ প্রতিটি ঘটনার সত্যতা পেয়েছে।
গত ২৯ আগস্ট রাতে সদর উপজেলার সাহাপুর যশোদল গ্রামের এক নারীকে একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ চার সহযোগীকে নিয়ে অপহরণ করে এবং চার দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। ওই নারী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ জানালে পুলিশ রাসেলকে আটক করলেও মামলা নথিভুক্ত করেনি। পরে থানা চত্বরে দুজনের বিয়ে দিয়ে ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা চালায় পুলিশ। এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশে হলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে মামলার পর সব আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাতেই তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে ডিসি আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে চারটি পর্যবেক্ষণ ও দুটি মতামতের মাধ্যমে পুরো বিষয়ের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। তবে কোনো সুপারিশ দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।