মেট্রোরেলের নিরাপত্তায় বিশেষ পুলিশ

নির্মাণাধীন মেট্রোরেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথক বিশেষ পুলিশ ইউনিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার সকালে গণভবনে ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (এমআরটি) অগ্রগতির ওপর ঢাকা মহানগরী ও এর আশপাশের এলাকায় এমআরটি লাইন নির্মাণের জন্য ‘টাইম বাউন্ড অ্যাকশন প্ল্যান ২০৩০’ পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের সময় তিনি এই নির্দেশ দেন। এই মেগা প্রকল্পের দ্রুত ও যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কিছু নির্দেশনাও দেন তিনি। ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক পাওয়ার পয়েন্টটি উপস্থাপন করেন।

পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ৬ লাইন এমআরটির পাশাপাশি ১, ২, ৩, ৪, ৫ লাইন এমআরটির অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়। এ সময় জানানো হয়, আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটির ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরা-আগারগাঁও অংশের প্রায় ৪৬ শতাংশ কাজ এবং আগারগাঁও-মতিঝিলের ২৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) সহযোগিতায় রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এমআরটি লাইন-৬ উত্তরা থার্ড ফেস থেকে শুরু হয়ে পল্লবীর মধ্য দিয়ে রোকেয়া সরণির পশ্চিম পাশ এবং ফার্মগেট, হোটেল সোনারগাঁও, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, দোয়েল চত্বর, তোপখানা রোড ও বাংলাদেশ ব্যাংক বিস্তৃত। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাইকা দিচ্ছে ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বাকি টাকা সরকার নিজস্ব উৎস থেকে জোগান দিচ্ছে। প্রতি চার মিনিট পরপর একটি ট্রেন স্টপিজে থামবে। প্রতিদিন গড়ে ৬০ হাজার যাত্রী এর মাধ্যমে যাতায়াত করতে পারবেন।

এই প্রকল্পে ১৬টি স্টেশন রয়েছে। স্টেশনের নামগুলো হবে হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী  নিহতদের নামে। ১৬টি স্টেশন হলোÑ উত্তর উত্তরা, মধ্য ও দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, সোনারগাঁও, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম ও বাংলাদেশ ব্যাংক। মতিঝিল থেকে একজন যাত্রীর উত্তরা পৌঁছাতে সময় লাগবে ৩৮ মিনিট।

পাওয়ার প্রেজেন্টেশনের সময় সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান (এমপি), প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, পিএমও সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সেলের সিইও ও সাবেক ডিএমপি কমিশনার মো. আসাদুজ্জামন মিয়া এবং জাইকার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।