চট্টগ্রামে কবিতা খানম

ভোটার হওয়া ঠেকাতে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক ইসিতে

ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিকের কপি কমিশনে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম। তিনি বলেছেন, ‘২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক সংগ্রহ করেছে পাসপোর্ট অফিস। তার একটি কপি কমিশনে আনা হয়েছে। ভোটার তালিকার সময় কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’

গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রামের সব থানা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কবিতা খানম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভোটার তালিকার সময় সংগ্রহে থাকা বায়োমেট্রিক মেলানো হবে। দুটি মিলে গেলে রোহিঙ্গা শনাক্ত করা সহজ হবে। কমিশনের সার্ভার ওভাবেই করা হয়েছে। আগে যেসব রোহিঙ্গা ভোটার হয়েছে, তাদের তালিকাও করা হচ্ছে। চূড়ান্ত হওয়ার পর বাদ দেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে কবিতা খানম বলেন, ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ইসির তদন্ত কমিটি কাজ করছে। ইতিমধ্যে ৪৬ জনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এ কাজে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত থাকলে, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাইরের কেউ সিন্ডিকেট করে এ কাজ করলে, তাদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি আইনে মামলা করা হবে।

তিনি বলেন, ভোটার তালিকা রোহিঙ্গামুক্ত রাখতে নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে নির্বাচন কর্মকর্তারা একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা উপহার দিয়েছেন। এবারও তারা কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় আনবেন না। জন্মনিবন্ধনসহ অনেক কিছু দেখে ভোটার করা হয়। রোহিঙ্গাদের এত কিছু পাওয়ার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, ভোটার হতে বা জাতীয় পরিচয় পেতে নির্ধারিত কিছু ডকুমেন্টের পাশাপাশি পার্সোনাল হেয়ারিং করার বিষয়ে সুপারিশ করেছে নির্বাচনের কমিশনের বিশেষ কমিটি। নির্বাচন কর্মকর্তারা সামনাসামনি কথা বলতে পারলে সহজেই রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করতে পারবেন।

এ সময় চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুনীর হোসাইন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গতকাল সোমবার নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম বলেছেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে রোহিঙ্গা নাগরিকের ভোটার হওয়া বা এনআইডি পাওয়ার যে তথ্য এসেছে, তা সঠিক নয়। বাংলাদেশে আসা ১১ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক ও তথ্য নিয়ে সার্ভার প্রস্তুত করা হয়েছে। কাজেই তারা আর ভোটার হতে পারবেন না।’

এ সময় ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান, এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) আবদুল বাতেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।