বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে নিখোঁজের দুই দিন পর মাটি চাপা দিয়ে রাখা সিয়াম মোল্লা (৬) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এই হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে সৎ মা ফেরদাউসি বেগমকে (২৫) পুলিশ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
দুই দিন আগে সিয়ামের সৎ মা তাকে মাথায় আঘাতের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে পুলিশ ধারণা করছে।
নিহত সিয়াম মোরেলগঞ্জ উপজেলার হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের বদনীভাঙা গ্রামের মিরাজ মোল্লার ছেলে।
শিশুটির বাবা মিরাজ মোল্লা বলেন, বনিবনা না হওয়ায় তিন বছর আগে প্রথম স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে ফেরদাউসি বেগমকে তিনি বিয়ে করেন। প্রথম ঘরের সন্তান সিয়াম আমাদের সাথেই থাকতো। আমার এই সন্তানটিকে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী মেনে নিতে না পারায় প্রায়ই ঝগড়া বিবাদ হতো।
দুই দিন আগে বিকেলে আমার ছেলে সিয়াম হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়। আমার স্ত্রীর কাছে ছেলে কোথায় জানতে চাইলে সে বলে তাকে অপরিচিত এক নারীর সাথে কথা বলতে দেখেছিলাম সে মনে হয় ধরে নিয়ে গেছে। এরপর আমি আমার ছেলে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানাই।
বাগেরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার রিয়াজুল ইসলাম বলেন, গত রবিবার বিকেল থেকে সিয়াম নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ সেখানে গিয়ে নিখোঁজ শিশুটির সৎ মা ফেরদাউসিকে জিজ্ঞাসবাদ করলে তার কথা অসংলগ্ন মনে হয়।
এক পর্যায়ে শিশু সিয়ামের সৎ মা তাকে প্রথমে মাথায় আঘাত করে মুখের ভেতরে কাপড় চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর বাড়ির ল্যাট্রিনের পাশে মাটি খুড়ে লাশ পুঁতে রাখে বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন। তার দেয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাটে পাঠানো হয়েছে।