ধর্ষণ মামলার বাদীকে পেটালেন আসামি শ্রমিক লীগ নেতা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গৃহবধূকে দল বেঁধে ধর্ষণ মামলার আসামি শ্রমিক লীগ নেতা শাকিল মৃধা জামিনে বের হয়ে বাদীকে পিটিয়ে হাত ও দুই পা ভেঙে দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে মহিপুরের চাপালী বাজারে হামলার এ ঘটনা ঘটে। শাকিল মৃধা মহিপুর থানা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বামী ও মামলার বাদী ছিদ্দিক হাওলাদারকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় জড়িত ও ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি খায়েরকে (৪২) গতকাল বুধবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শ্রমিক লীগ নেতা শাকিল পলাতক

রয়েছেন। মহিপুর থানার ওসি মো. সোহেল আহম্মদ দেশ রূপান্তরকে জানান, শাকিল মৃধার নেতৃত্বে গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ছিদ্দিক হাওলাদারের ওপর হামলা হয়। ছিদ্দিক ধুলাশ^র ইউনিয়নের পশ্চিম চাপালী এলাকার বাসিন্দা। গত ১৫ এপ্রিল তার স্ত্রীকে রাতভর দল বেঁধে ধর্ষণের মামলার বাদী তিনি। ওই মামলায় শ্রমিক লীগ নেতা শাকিলসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। পুলিশ ওই মামলায় শাকিলকে আটক করলেও সম্প্রতি তিনি জামিনে বেরিয়ে এসে মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন বলে বাদীপক্ষের অভিযোগ।

প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে ওসি সোহেল বলেন, ‘ছিদ্দিক চাপালী বাজারে একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় শাকিল তাকে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা ছিদ্দিককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালে পাঠানো হয়। ছিদ্দিকের বাঁ হাত ও দুই পা ভেঙে গেছে বলে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জানিয়েছেন।

ছিদ্দিকের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানান ওসি সোহেল।

আহত ছিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে গণধর্ষণের মামলার আসামি সদ্য জেল থেকে বের হওয়া শাকিল, শাহ আলম, মামুন ও রবিউলসহ কয়েক যুবক এই হামলা চালিয়েছে। তারা আমাকে মাটিতে ফেলে সারা শরীরে রড ও ইট দিয়ে পেটায়। এ সময় আমাকে বাঁচাতে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলেও শাকিলের বাহিনীর সদস্যরা তাদের অস্ত্রের মুখে দূরে সরিয়ে দেয়।’

আহতের ভাই কবির হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘খবর শুনে ভাইকে উদ্ধার করে চাপালী বাজার হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা আসামিদের ভয়ে চিকিৎসা দেয়নি। গণধর্ষণ মামলার জেরে এ হামলা চালানো হয়েছে।’

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল রাতে কলাপাড়ার ধুলাশ্বর ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামে স্বামীকে বেঁধে রেখে তার সামনে স্ত্রীকে দল বেঁধে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন পটুয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা করেন ছিদ্দিক হাওলাদার। এতে শ্রমিক লীগ নেতা শাকিলসহ একই এলাকার শাহ আলম, শাহিন, রবিউল, আল-আমিন ও আবদুর রশিদসহ ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়।