জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরে দুটি সম্মাননা পাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাক্সিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (জিএভিআই) শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ হিসেবে সম্মানিত করবে। ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনিসেফ ‘অ্যান ইভনিং টু অনার হার এক্সিলেন্সি প্রাইম মিনিস্টার শেখ হাসিনা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল
ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করবেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে ২২ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
আবদুল মোমেন বলেন, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের অবসানে এর আগে জাতিসংঘে দেওয়া প্রস্তাবের ভিত্তিতে নতুন কিছু প্রস্তাব তিনি তুলে ধরবেন। এ বছর অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ঠিক হয়েছে ‘দারিদ্র্য বিমোচন, মানসম্মত শিক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও অনর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে বহুপক্ষীয় চেষ্টা জোরদারকরণ’। জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ, ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট ২০১৯, গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপ্টেশন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ওআইসির সেমিনার, সমকালীন বিশ্বে মহাত্মা গান্ধীর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পলিটিক্যাল ফোরামে অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রতিবন্ধিতা ও মানসিক স্বাস্থ্য জটিলতার ক্ষেত্রে প্রাথমিক সেবা বিষয়ে একটি অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন। এক প্রশ্নের জবাবে মোমেন জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে চীনের মধ্যস্থতায় মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তার। এই সফর চলাকালে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পোস্টকে সাক্ষাৎকার দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা পেশ করতে পারেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের উদ্যোগে রোহিঙ্গা শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এই ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের শিগগিরই নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে মুসলিম বিশ্বের সহযোগিতা ও করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করা হবে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ কে আবদুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমার তৈরি করেছে এবং এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। আমরা আশাবাদী, কারণ অনেক দেশ আমাদের প্রস্তাবগুলো সমর্থন করেছে, যেমন চীন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করেছিলেন এবং তাদের অবস্থান জানিয়েছেন। আমরা তাদের কথা শুনেছি এবং আমাদের অবস্থান জানিয়েছি।’ তবে নীতিগতভাবে আমরা সবার উন্নয়ন চাই। এবারের সাধারণ পরিষদে শিক্ষামন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হবেন।