গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সংস্থাগুলোর ১১টি দপ্তরের কাছে বিপুল পরিমাণ গৃহকর বকেয়া পড়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক)। চসিক এলাকায় থাকা গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১১ দপ্তর প্রধানদের পাওনা টাকা পেতে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও এর সমাধান হচ্ছে না। তাই এ বকেয়া টাকা পেতে চসিকের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ২ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন।
জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের অফিসগুলোর কাছে চসিকের গৃহকর বকেয়া থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমাদের কাছে বকেয়ার বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হলে তা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করব।’ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ সেপ্টেম্ব
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের কাছে একটি চিঠি পাঠান চসিকের মেয়র আ জ ম নাছির। এই চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মূল আয় গৃহকর। এ করের টাকায় উন্নয়ন কাজ ছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট ১৪ কোটি ৮৪ লাখ ৩২ হাজার ৩৭০ টাকা পাওনা রয়েছে। এ বিষয়ে একাধিক বৈঠক হওয়ার পর বিল পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এ খাতে বাজেট নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। তাই গৃহকর পরিশোধের জন্য অর্থ বরাদ্দ করার অনুরোধ করা হলো।
কর্মকর্তারা জানান, ১১টি সংস্থার কাছে তাদের এ গৃহকর পাওনা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে ৩ কোটি ৯১ লাখ ৭ হাজার ৬৩৬ টাকা, গণপূর্ত বিভাগ (ডিভিশন-১) ২৭ লাখ ৪৫ হাজার ৫৭৮, গণপূর্ত বিভাগ (ডিভিশন-২) ১ কোটি ৭২ লাখ ৪৯ হাজার ৫১২, গণপূর্ত বিভাগ (ডিভিশন-৩) ২৫ লাখ ৫৫ হাজার ৭১১, গণপূর্ত বিভাগ (ডিভিশন-৪) ১ কোটি ৭৬ লাখ ৪৯ হাজার ৭৭৭, গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ ৫ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার ৫১৭, হাউজিং সেটেলমেন্ট ২২ লাখ ৮২ হাজার ৪৪৮, নির্বাহী প্রকৌশলী (গৃহ সংস্থা) ১ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার ১৭৩, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে ২২ লাখ ২০ হাজার ১৭৫ টাকাসহ চসিকের পাওনা রয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা।