ছেলে হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মায়ের মানববন্ধন

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পূর্বপাঁচগাঁও গ্রামের সোহাগ মৃধাকে (৩৩) হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি ওঠে একই গ্রামের সালাম হাওলাদার ওরফে বয়রা সালামের (৪৭) বিরুদ্ধে।

হত্যাকারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নিহতের মা মাসুদা বেগমসহ পরিবার ও পূর্বপাঁচগাঁও গ্রামবাসী। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে মানববন্ধন করেন তারা।

এ সময় সোহাগের মা মাসুদা বেগম, স্ত্রী নাসিমা বেগম, ভাই সোহেল মৃধা, তুহিন মৃধা, লিটন মৃধাসহ পূর্বপাঁচগাঁও গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ আগস্ট রাতে নিখোঁজ হয় সোহাগ মৃধা। পরে ১৮ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর গ্রামের সুমন ওস্তাগারের বাড়ির পাশের ডোবায় সোহাগের লাশ স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে নড়িয়া থানার পুলিশকে জানায়।

পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তর জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ১৯ আগস্ট সোহাগের বড় ভাই সোহেল মৃধা বাদী হয়ে সালাম হাওলাদার ও অজ্ঞাত ৫ জনের বিরুদ্ধে নড়িয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলার আসামি সালাম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার বাদী সোহেল মৃধা (৩৫) বলেন, সোহাগ মৃধা ও সালাম হাওলাদার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। সেই সূত্র ধরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সালাম হাওলাদার আমার ভাইকে ডেকে নেয়। ডেকে নেয়ার পর ছোট ভাই আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। ডেকে নিয়ে ভাইকে হত্যা করেছে সালাম হাওলাদাররা।

নিহত সোহাগের মা মাসুদা বেগম (৭০) মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে সালামরা হত্যা করেছে। আমার বুকের ধন কেড়ে নিয়েছে। আমি ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করতে এসেছি।

স্ত্রী নাসিমা বেগম (২৩) বলেন, আমার সোহানা নামে চার বছরের একটি মেয়ে আছে। আমার মেয়ে কাকে বাবা বলে ডাকবে? আমার মেয়েকে যারা বাবা হারা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়িয়া থানার এসআই আবুল কালাম জানান, আসামি সালামকে আদালত থেকে দুই বার রিমান্ডে আনা হয়। তিনি কৌশলে হত্যার কথা অস্বীকার করে এড়িয়ে যান। তবে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।