অনুকূল আবহাওয়ায় চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) চট্টগ্রামে চা উৎপাদন বেড়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে এ অঞ্চলে চা উৎপাদন রেকর্ড বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম শাখার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেনÑ জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে চট্টগ্রামের ২২টি বাগানে চা উৎপাদন হয়েছে ৬৪ লাখ ২৮ হাজার কেজি। গত বছরের একই সময় উৎপাদন হয়েছিল ৫৫ লাখ ১৭ হাজার কেজি। সেই হিসাবে চলতি বছর উৎপাদন বেড়েছে ১৪ শতাংশের বেশি।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর প্রথম ছয় মাসে সারা দেশের ১৬৬টি বাগানে চা উৎপাদন ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন বেড়েছে টি কে গ্রুপের মালিকানাধীন এলাহিনূর চা বাগানে। গত বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে এখানে উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার কেজি। আর চলতি বছর একই সময় প্রায় ৩৪ শতাংশ উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার কেজি। একই গ্রুপের বারমাসিয়া ও রাঙাপানি বাগানে উৎপাদন বেড়েছে যথাক্রমে ৩১ ও ২৭ শতাংশ। হেক্টরপ্রতি উৎপাদনে বরাবর শীর্ষে থাকা হালদা ভ্যালি বাগানে বেড়েছে ৮ শতাংশ। তবে রামগড় বাগানে উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ৮ শতাংশের বেশি কমেছে।
বাংলাদেশি চা সংসদের সাবেক সভাপতি নাসিরউদ্দিন বাহাদুরের মালিকানাধীন পঞ্চবটি টি এস্টেটে চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে উৎপাদন বেড়েছে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ। তিনি জানান, প্রায় ২০ একর জমিতে বাগান সম্প্রসারণ করেছেন। তাই উৎপাদন বাড়ছে। চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে উৎপাদন গত বছরের তুলনায় বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। নাসিরউদ্দিন বাহাদুর বলেন, সত্তরের দশকে দেশে চা উৎপাদন হতো ৩ কোটি কেজি। আর অভ্যন্তরীণ চাহিদা ছিল মাত্র ৫০ লাখ কেজি। সে সময় চা রপ্তানি করা যেত। আর এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা ৮ কোটি ৫০ লাখ কেজির বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ৮ কোটি ২০ লাখ কেজি। এ অবস্থায় রপ্তানি সম্ভব নয়। তবে এখন উৎপাদন বাড়ছে। এভাবে উৎপাদন বাড়লে এক সময় বিশ্বের চায়ের বাজার বাংলাদেশের দখলে আসবে। চা বোর্ডের সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জানুয়ারি-জুন সময়ে দেশের ১৬৬টি বাগানে মোট ২ কোটি ৭৯ লাখ ৪৮ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের একই সময় এটি ছিল ১ কোটি ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার কেজি। সে হিসেবে বছরের প্রথমার্ধে চা উৎপাদন বেড়েছে ৪৪ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চা বাগানের জমির সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। মাত্র ৫২ শতাংশ জমি চা চাষের যোগ্য। বাকি ৪৮ শতাংশ জমি পতিত ও চা চাষের জন্য ইজারা নিয়ে অন্য খাতে ব্যবহার হচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, ইজারা নেওয়া জমির সঠিক ব্যবহার, সহজ শর্তে ব্যাংকঋণের ব্যবস্থা, সঠিক মনিটরিং, কম মূল্যে সার-কীটনাশক সরবরাহ ও ক্লোনিং চা গাছ রোপণ করলে উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব।