বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন

পড়া না পারায় বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর-পেয়ারপুর ১০৯নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আয়শা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে। গত শনিবার এ ঘটনার পর স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার অভিভাবকরা স্কুল মাঠে ওই শিক্ষিকার শাস্তি ও অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষিকা আয়শা নিয়মিত শিক্ষার্থীদের অত্যাচার করে আসছেন। একাধিক অভিযোগ করার পরও ক্ষমতাবলে এখনো তিনি একই বিদ্যালয়ে চাকরি করছেন। সর্বশেষ গত শনিবার পঞ্চম শ্রেণির ক্লাসে পড়া না পারায় ছয় শিক্ষার্থীকে বেঞ্চের নিচে মাথায় দিয়ে শাস্তি দেন তিনি। এতে দুই ছাত্রী ও এক ছাত্রের নাক দিয়ে রক্ত চলে আসে।

অসুস্থ তৃষার মা মিলি দাস বলেন, ‘পড়া না পারায় মেয়েকে আয়শা ম্যাডাম দীর্ঘ সময় বেঞ্চের নিচে মাথা দিয়ে শাস্তি দিয়েছে। মাথা ওঠালেই স্কেল দিয়ে পিঠে আঘাত করেছে। অনেকক্ষণ বেঞ্চের নিচে মাথা রাখায় নাক দিয়ে রক্ত বের হয়। আমি মেয়েকে পড়াশোনা করতে দিয়েছি। মার খেতে দিই নাই।’ ঐশী দাসের বাবা টিটু দাস বলেন, ‘এ ম্যাডাম আগেও বাচ্চাদের মারধর করত। আজ আমার মেয়েকে শাস্তি দেওয়ার কথা বলে অমানুষিক অত্যাচার করেছে। আমি তার শাস্তি চাই। এই ম্যাডাম স্কুলে এলে আমি আমার সন্তানকে স্কুলে দেব না।’

জেলা যুবলীগ নেতা সমুন তালুকদার বলেন, ‘বাড়ির পাশে স্কুল হওয়ায় আমি কয়েকবার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটিকে জানিয়েছি। তারা এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাছাড়া স্কুলে সরকারের বিধি-নিষেধ না মেনে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান আয়শা ম্যাডাম।’

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জালাল মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ‘দূরে আছি’ বলে ফোন কেটে দেন। পরে ফোন বন্ধ করে রাখেন। প্রধান শিক্ষিকা নঈমা আক্তার এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।

এদিকে ঘটনার দিন উপজেলা শিক্ষা অফিসার (এটিও) মোখলেসুর রহমান বলেছিলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষিকা আয়শা সিদ্দিকাকে আগামীকালের (রবিবার) মধ্যে গৌরবদ্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হবে এবং প্রধান শিক্ষিকাকে শোকজ করা হবে।’ কিন্তু কয়েকদিন চলে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে গতকাল জানতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানান শিক্ষা অফিসার। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নাসিরউদ্দিন আহমেদ জানান, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারিভারে শিক্ষার্থীদের কোনোপ্রকার অমানুষিক অত্যাচার ও লাঠি দিয়ে আঘাত করার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে উল্লেখ করে মানবাধিকারকর্মী সবুল বিশ্বাস জানান, তারপরও ওই শিক্ষিকা যা করেছেন সেটা মানবাধিকারবিরোধী কাজ। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা আয়শা বলেন, ‘পড়া না পারায় তাদের শাসন করেছিলাম। আমার ভুল হয়েছে। তাছাড়া ওই শিক্ষার্থীরা ওইদিন সকালে না খেয়ে এসেছে; তাই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’