হাসপাতালের পাশে মর্গ থাকার কথা থাকলেও চাঁদপুরে এর উল্টো চিত্র। শহরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়কে অবস্থিত আড়াই শ’ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গটি অবস্থিত দুই কিলোমিটার দূরে স্বর্ণখোলা রোডে।
শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লার ময়লা আবর্জনা এনে ফেলা হয় মর্গের সামনে। এতে করে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চিকিৎসকসহ ভুক্তভোগীর আত্মীয়দের। ময়নাতদন্তের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া মর্গে আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব, ময়লা-আবর্জনা সমস্যা ও ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকায় এর প্রভাব পড়ছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও।
শহরের স্বর্ণখোলা রোডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ একটি ভুতুড়ে ভবনে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গটি। হাসপাতাল থেকে ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মর্গটিতে ময়নাতদন্তের জন্য নেই কোন সুব্যবস্থা। মর্গের চারপাশে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়, রয়েছে শূকরের খামার। মর্গের আশপাশে শূকরের বিচরণ আর দূষিত ময়লা আবর্জনায় ভরা পরিবেশেই চিকিৎসকদের করতে হচ্ছে ময়নাতদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, অপরিকল্পিতভাবে তৈরি মর্গটিতে নেই পর্যাপ্ত লোকবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি, লাশ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ, ভেন্টিলেশন। এছাড়া মরদেহ ধোয়ার পরে রক্ত ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও নেই। এখানে ময়নাতদন্তের জন্য চারজন ডোমের চাহিদা থাকলেও রয়েছে মাত্র দুজন। এদের মধ্যে একজন মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় সাময়িকভাবে বরখাস্ত। তাই চারজনের কাজ একজন ডোমের মাধ্যমেই করা লাগছে চিকিৎসকদের। এমনকি ময়নাতদন্তকারী কোন চিকিৎসকও নেই চাঁদপুরে। তাই বাধ্য হয়েই হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার, সার্জারি, মেডিসিনসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের হাসপাতালের ডিউটি ফেলে ময়নাতদন্তের কাজ করতে হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সুজাউদৌলা রুবেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতার মাঝে আমাদের কাজ করতে হয়। মর্গটির আশপাশের পরিবেশে গেলে যে কোন সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বে। কর্তৃপক্ষকে অনেক বার বলার পরেও ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ হয়নি। শূকরের খামার পেরিয়ে যাওয়া লাগে মর্গে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে লাশ কাটার জন্য কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই, লাশ সংরক্ষণের জন্য নেই কোন ফ্রিজিং ব্যবস্থা। তাই অনেক সময় গরমে লাশে পচন ধরে ময়নাতদন্ত কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। তাছাড়া এই কাজের জন্য ডাক্তারদের প্রণোদনার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় চিকিৎসকরাও আগ্রহী হয় না ময়নাতদন্ত কাজের জন্য। এখানে কোন পরীক্ষাগার না থাকায় রিপোর্টের জন্য লাশের দেহের বিভিন্ন স্যাম্পল কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম পাঠানো হয়। এতে তদন্তের রিপোর্ট পেতে ১৫ দিন থেকে মাসখানেক সময় লেগে যা।
মর্গের একমাত্র ডোম বাপ্পী বলেন, লোকবল সংকটের কারণে মর্গে আমার একাই সকল কাজ করতে হয়। অনেক সময় লাশ বেশি আসলে সমস্যায় পড়তে হয়। মর্গের ভেতরে আলো-বাতাসের ব্যবস্থা ঠিকমতো না থাকায় অনেক সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের। তাছাড়া একটু বৃষ্টি হলেই ভাঙা জানালা দিয়ে পানি ঢুকে যায় মর্গে। এতে কাজে অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে।
চাঁদপুর আড়াই শ’ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. আনোয়ারুল আজিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাসপাতালের মর্গের এই সংকট দূর করতে কর্তৃপক্ষের নিকট বিভিন্ন সময়ে দাবি জানালেও আশ্বাস ছাড়া সমাধান পাওয়া যায়নি। এই রকম নোংরা পরিবেশ কাজ করার মতো নয়। উন্নত ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক সময় ১০ মিনিটের কাজ ১ ঘণ্টা গেলে যায়। এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সঠিক রিপোর্ট দেওয়ার শতভাগ চেষ্টা করা হয় বলে জানান তিনি।