ধর্মের কল বাতাসে নড়তে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গত ১২ বছরে যে দুঃশাসন, দুর্নীতি, নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে তা অন্য কাউকে বলতে হচ্ছে না। আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেরাই নিজেদের দুর্নীতির প্রমাণ দিচ্ছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে ঢাকা শহরে ৬০টি ক্যাসিনোর কথা গণমাধ্যমে এসেছে। এগুলো চালাচ্ছে যুবলীগ, আওয়ামী লীগের নেতারা। এখন নিজেরা ধরা পড়েছে, অন্যদের আবার দোষ ধরতে চায়। আজকে প্রমাণিত হয়েছে, এ সরকার দুর্নীতিতে মদদ দিচ্ছে। সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। গত ১২ বছরে তারাই দেশকে লুটপাট করে শ্মশানে পরিণত করেছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ধরা পড়ল ‘ফেয়ার শেয়ার’ নিতে গিয়ে। সেই শেয়ার আবার ১-২ কোটি টাকা নয়, ৮৬ কোটি টাকা। ফখরুল বলেন, মজার ব্যাপার হলো, ফেয়ার শেয়ারের বিষয়ে ছাত্রলীগের নেতারা যার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি আর কেউ নন, খোদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর। ভাইস চ্যান্সেলরদের মানুষ সম্মানের চোখে দেখে। অথচ তারাই ঘুষ-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। আজকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন।
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আজকে এসব বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরদের কারা নিয়োগ দিয়েছেন। ভালো লোক থাকলেও অবৈধ সরকার বেছে বেছে সবচেয়ে খারাপ লোকদের নিয়োগ দিয়েছে।
খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি এখন হাঁটতে পারেন না। অন্যের সাহায্য নিয়ে তাকে উঠে দাঁড়াতে হয়। তাকে সুচিকিৎসা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। বারবার আমরা বলেছি, তাকে সুচিকিৎসার জন্য মুক্তি দিতে হবে। সরকার তাতে কোনো কর্ণপাত করছে না। আমরা কিন্তু তাদের কাছে দয়া ভিক্ষা চাচ্ছি না, এটা তার ন্যায্য প্রাপ্য অধিকার।
মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে ছিলেন যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, যুবদল দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মঞ্জু, সাধারণ সস্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন প্রমুখ।