রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার কলাবাগান ক্লাবে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বিদেশি পিস্তল, ইয়াবা ও জুয়া খেলার সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-২)। এ সময় ক্লাবটির চেয়ারম্যান সফিকুল আলম ফিরোজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফিরোজ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা ক্লাবের অফিস সহকারী। তারা হলেন ফিরোজের সহযোগী হাফিজুল ইসলাম, হারুন, আনোয়ার ও মিঠুন মিয়া। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে ধানমন্ডি থানায় মামলা হবে বলে জানিয়েছে র্যাব।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে সোয়া ৮টা পর্যন্ত অভিযান চলে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের ক্লাবে। র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাউসুল আজমের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। এর আগে ক্লাবের চেয়ারম্যান সফিকুল আলম ফিরোজকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। ঘণ্টাব্যাপী অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া অবৈধ অস্ত্র ও জুয়ার সরঞ্জাম ক্লাবের বাইরে প্রদর্শন করে র্যাব।
এদিকে রাত সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেডের বারের গোডাউন সিলগালা করেছে র্যাব-২। এরপর রাতে এলিফ্যান্ট রোড ও কারওয়ান বাজারের একাধিক ক্লাবে অভিযান চালানোর কথা থাকলেও রাত ১টার পর্যন্ত অভিযানোর কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে র্যাব-২-এর এএসপি সাইফুল ইসলাম গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, এলিফ্যান্ট রোডের এজাক্স ক্লাব ও কারওয়ান বাজারের আরও একটি ক্লাবে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আর করা হয়নি।
চট্টগ্রাম নগরীতে ‘হেং আউট’ নামে একটি স্নুকার ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানকালে ২৭ জনকে আটক করা হলেও যাছাইবাছাই শেষে ২৫ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
কলাবাগান ক্লাবে রাতে অভিযানের আগে দুপুর থেকেই র্যাব-২ এর সদস্যরা দ্বিতল ভবনের ক্লাবটি ঘেরাও করে রাখে। প্রধান ফটকটি বন্ধ করে ভেতরে র্যাবের কয়েক সদস্য প্রবেশ করে। তবে কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। অভিযানের ঠিক আগ মুহূর্তে গণমাধ্যমকর্মীদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় সংবাদকর্মীরা কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের মাঠে অবস্থান নেয়।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলাবাগান ক্রীড়া চক্রের মাঠে অভিযান নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন র্যাব-২ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ। তিনি জানান, ঢাকা শহরে অবৈধ ক্যাসিনো, জুয়া এবং বারের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে কলাবাগ ক্লাবে দুপুর থেকে র্যাব সদস্যরা অবস্থান নেয়। আমাদের কাছে তথ্য ছিল এই ক্লাবে ক্রীড়া সংস্থার ব্যানারের আড়ালে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ অনুমোদনবিহীন কার্যক্রম চলমান।
তিনি বলেন, ক্লাবটি থেকে জুয়া খেলার অংশ হিসেবে বিদেশি কয়েন, আমেরিকার তৈরি ৫৭২ প্যাকেটের বেশি প্লেয়িং কার্ড উদ্ধার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের কয়েন উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো জুয়া খেলা ও ক্যাসিনোতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ ছাড়া একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন, সাত প্যাকেট ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এসব ইয়াবা বিশেষ ধরনের, যা আগে কোথাও দেখা যায়নি। এর রং হলুদ এবং কোনো গন্ধ নেই।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র্যাব অধিনায়ক বলেন, ‘এখানে আগে ক্যাসিনো ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। হয়তো কোনো কারণে তারা সেটি সরিয়ে নিয়েছে। ক্লাবের ভেতরে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ বিভিন্ন দ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় চেয়ারম্যান সফিকুল আলম ফিরোজসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সবার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হবে।’
অস্ত্রটি কার কাছে পাওয়া গেছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কার্যালয় সভাপতির হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ধানমণ্ডি ক্লাব বার সিলগালা : রাজধানীর ধানম-ি ক্লাব লিমিটেডের বারের গোডাউন সিলগালা করেছে র্যাব-২। গতকাল রাত সোয়া ১০টার দিকে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গাউসুল আজম ওই সময় থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য এই সিলগালা করে দেন।
র্যাব-২ এর অধিনায়ক শাহাবুদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার বারটি বন্ধ থাকায় কর্র্তৃপক্ষ মদের মজুদের হিসাব দেখাতে পারেননি। এ কারণে ২৪ ঘণ্টার জন্য সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বারটিতে জুয়া খেলার তথ্য পেয়েছে র্যাব। এ ছাড়া বারে থাকা মদের অনুমতি রয়েছে কি না তা যাচাইয়ের জন্য গতকাল বারটির গোডাউন খোলার চেষ্টা করেছিলেন তারা। কিন্তু কর্মচারীরা ছুটিতে থাকায় হিসাব দিতে পারেনি কর্র্তৃপক্ষ। পরবর্তী সময়ে হিসাব মিলিয়ে অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রামে ‘হেং আউট’ ক্লাবে পুলিশের অভিযান : জুয়া খেলার অভিযোগ পেয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে ‘হেং আউট’ নামে একটি স্নুকার ক্লাবে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানকালে ২৭ জনকে আটক করা হলেও যাছাইবাছাই শেষে ২৫ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে কোতোয়ালি থানা পুলিশ এ অভিযান চালায়।
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মহসিন দেশ রূপান্তরকে জানান, নগরীর আলমাস সিনেমার উপরে ‘হেং আউট’ ক্লাবে জুয়া খেলা চলছে বলে অভিযোগ পেয়ে রাত ৮টার দিকে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় সেখান থেকে স্নুকার খেলা অবস্থায় ২৭ জনকে আটক করা হয়। কিন্তু জুয়ার কোনো আলামত না পাওয়ায় যাচাইবাছাই শেষে ২৫ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিকের দুই ছেলে খালেকুজ্জামান ও রতনকে আটক রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।