মশার কামড়ে ত্বকের সমস্যা

মশার কামড় থেকে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ছাড়াও ত্বকে ঘা হতে পারে। যেকোনো মশা কামড়ালেই ডেঙ্গু হয় না। আবার যেকোনো এডিস মশা কামড়ালেই যে ডেঙ্গু হয়ে যাবে, ব্যাপারটা তেমন নয়। তবে যেকোনো মশার কামড়েই যা হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে, তা হলো ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ। সেখান থেকে হতে পারে চুলকানি, ফুসকুড়ি, র‌্যাশ, ঘা ইত্যাদি।

মশার কামড় থেকে ত্বকের সমস্যা নতুন কিছু নয়। এটা কারও বেশি হয়, কারও আবার হয় না। যাদের অ্যালার্জির প্রবণতা বেশি, তাদের এ সমস্যা বেশি হয়। অনেক সময় একটি মশার কামড়েই দু-তিনটি ফুসকুড়ি দেখা দেয়। সমস্যা আরও বেড়ে যায় চুলকানোর কারণে।

মশা কামড়ানোর সময় গায়ে মশা মারার কারণে, মশার হুল চামড়ায় থেকে যাওয়া, নখ বড় থাকলে তা দিয়ে চুলকানোর কারণে ক্ষত সৃষ্টি হওয়া, ঘুমের ঘোরে অতিরিক্ত চুলকানো ইত্যাদি বিষয় ত্বকের সমস্যার তীব্রতা বাড়ায়। এই ক্ষত পরিষ্কার না থাকলে সেখানে নতুন সংক্রমণের কারণে তা ঘায়ে রূপ নিতে পারে।

সমস্যা নিয়ন্ত্রণ

প্রথমত মশা কামড়ালে ওই স্থানে নখ দিয়ে চুলকানোর প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর ত্বক সুস্থ রাখার জন্য শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করে ভালোমানের ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। নারিকেল তেল, জলপাইয়ের তেল, পেট্রোলিয়াম জেলি, লোশন, ক্রিম ইত্যাদি যেকোনো কিছুই ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। মশার কামড় থেকে বাঁচতে ‘মসকুইটো রিপেলেন্ট ক্রিম’ ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে এ ধরনের ক্রিম অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণেও পাশর্^প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই এ ধরনের ক্রিম শরীরে মালিশ না করে বরং দুই হাতে মাখিয়ে শরীরে আলতো করে ছুঁইয়ে নিতে হয়। শিশুদের ত্বক যেহেতু সংবেদনশীল, তাই তাদের ক্ষেত্রে এই ক্রিম ব্যবহারে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

এ ছাড়া কয়েল, স্প্রে, ‘লিকুইড মসকুইটো রিপেলেন্ট’ ইত্যাদিও ব্যবহার করা যায়। তবে মশারিই হবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। আর ত্বকে ফুসকুড়ি, র‌্যাশ দেখা দিলে কিংবা ঘা হয়ে গেলে সেখানে জীবাণুনাশক ক্রিম মাখানো যেতে পারে।

ডা. এম বখতিয়ার কামাল

সহকারী অধ্যাপক (চর্ম ও যৌন)

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

চেম্বার : কামাল স্কিন সেন্টার

গ্রিন রোড, ঢাকা

০১৭১১-৪৪০৫৫৮