রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি শহরের ১৩টি অভিজাত ক্লাবে জুয়া খেলার ওপর হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা আপিল বিভাগে স্থগিতের সুযোগ নিয়ে এখনো চলছে বেআইনি এ কাজ। এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর রুলসহ নিষেধাজ্ঞা জারি করে হাইকোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে একই বছরের ৬ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ দুই মাসের জন্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে। একই সঙ্গে দুই মাসের মধ্যে ওই রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, উত্তরা ক্লাব,বনানী ক্লাব, ধানমণ্ডি ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব ঢাকা, ঢাকা লেডিস ক্লাব, ক্যাডেট কলেজ ক্লাব, চিটাগাং ক্লাব, চিটাগাং সিনিয়রস ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব, খুলনা ক্লাব ও সিলেট ক্লাবে জুয়া খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল হাইকোর্ট। প্রায় তিন বছর হলেও এখন পর্যন্ত রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের সুযোগ নিয়ে ওই ক্লাবগুলোতে এখনো জুয়া খেলা চলছে। রুল নিষ্পত্তির শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষও আজ পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
জানতে চাইলে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০১৬ সালে হাইকোর্টের জারি করা রুলের ওপর এখনো শুনানি হয়নি। আগামী ১০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের ছুটি শেষ হলে এ বিষয়ে শুনানির জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
হাইকোর্ট জুয়া খেলা বন্ধে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা, খুলনা ও সিলেটের পুলিশ কমিশনার এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেট ও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকসহ ২৫ জনকে আদেশ বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিতে বলেছিল। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ খেলার নামে কার্ড, ডাইস ও হাউজি খেলার আয়োজকদের বিরুদ্ধে কেন যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল আদালত।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সামিউল হক ও রোকন উদ্দিন মো. ফারুক ১৩টি ক্লাবে জুয়া খেলা বন্ধের দাবিতে ২০১৬ সালে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন। এতে বলা হয়, ১৮৬৭ সালের ‘বঙ্গীয় প্রকাশ্য পাবলিক জুয়া আইন’-এর তিন ধারায় বলা আছে, এ ধরনের জুয়া খেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। যেকোনো ঘর, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনো সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।
আবেদনে আরও বলা হয়, কোনো ঘরে তাস, পাশা কাউন্টার বা যেকোনো সরঞ্জামসহ কোনো ব্যক্তিকে ক্রীড়ারত বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলে তিনি এক মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০০ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। পুলিশ জুয়ার সামগ্রীর খোঁজে যেকোনো সময় তল্লাশি চালাতে পারবে বলেও আইনে বলা রয়েছে। এ ছাড়া সংবিধানেও জুয়া খেলার বিরুদ্ধে স্পষ্ট বিধান রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় রিটে।
১৩ ক্লাবে জুয়া খেলা বন্ধের দাবিতে রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার রেদোয়ান আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্ট ১৩টি ক্লাবে জুয়া খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ দুই মাসের জন্য স্থগিত করে এ-সংক্রান্ত রুল দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলেন। কিন্তু হাইকোর্টে এ রিটের নিষ্পত্তি হয়নি। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্লাবগুলোয় জুয়া খেলা চলছে।’ হাইকোর্টের অবকাশ শেষে এ রিটের চূড়ান্ত শুনানির উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান এই আইনজীবী।
ঢাকা ক্লাব ও উত্তরা ক্লাবের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আপিল বিভাগের আদেশের পরে হাইকোর্ট বেঞ্চটি ভেঙে যায়। এ কারণে রুলটি নিষ্পত্তি হয়নি। রুল নিষ্পত্তি না হওয়ায় আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ এখনো বহাল রয়েছে। ফলে এসব ক্লাবে অভ্যন্তরীণ খেলা পরিচালনায় আইনগত কোনো বাধা নেই। হাইকোর্টের নতুন কোনো ডিভিশন বেঞ্চে রুল নিষ্পত্তির জন্য এখন আবেদন করতে হবে বলেও জানান তিনি।