বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী ও সংগঠক কামরুল হাসান মঞ্জুকে যশোরে সমাহিত করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে মরদেহ তার বাড়ি জেলা শহরের বিমানবন্দর সড়কে এসে পৌঁছায়। জোহরের নামাজের পর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শহরের কারবালা কবরস্থানে তাকে অন্তিম শায়িত করা হয়। গত শনিবার সন্ধ্যায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসায় নাশতার টেবিলে হঠাৎ বমি শুরু করেন মঞ্জু। এ অবস্থায় তাকে দ্রুত আশিয়ান হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই তার মরদেহ দাফনের জন্য যশোর নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে তিনি তিনবার স্ট্রোক করেছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়।
দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে অনেকটা দূরেই ছিলেন দেশের আবৃত্তিচর্চার অন্যতম পথিকৃৎ কামরুল হাসান মঞ্জু। আবৃত্তির মানুষ মঞ্জুর মৃত্যুর সংবাদে দেশের সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।
গতকাল দুপুরে যশোরে জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদ, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ হাসান বিপু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হারুন অর রশিদ, যশোর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাজেদ নেওয়াজ, আবৃত্তির সংগঠন স্বগত কণ্ঠের পরিচালক কাজী শাহেদ নেওয়াজ, চারুপীঠের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ প্রমুখ।
যশোর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি হারুন অর রশিদ জানান, যশোরে সত্তর দশকের প্রথম ভাগ থেকে আশির দশকের প্রথম ভাগ পর্যন্ত সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে উজ্জ্বল ভূমিকা ছিল কামরুল হাসান মঞ্জুর। যশোর সাহিত্য পরিষদ গঠন ও সাহিত্য পত্রিকা উন্মেষ প্রকাশে তিনি ছিলেন মুখ্য ভূমিকায়। বাম রাজনীতিতে প্রভাবিত মঞ্জুর কবিতা আবৃত্তি যেকোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল আকর্ষণীয়।
প্রয়াত মঞ্জুর ভাই জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক জিয়াউল হাসান হ্যাপি জানান, তারা পাঁচ ভাই ও দুই বোন। কামরুল হাসান মঞ্জু ছিলেন সবার মধ্যে দ্বিতীয়। তার পিতা মরহুম মোজাফ্ফর হোসেন।
যশোর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী মাজেদ নওয়াজ বলেন, মঞ্জুই প্রথম ১৯৮৩ সালে দর্শনীর বিনিময়ে কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। যশোর সাহিত্য পরিষদ গঠনে তার ছিল দৃপ্ত ভূমিকা।