সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী

মাদক ক্যাসিনো অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার

সরকার সব ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, এক্ষেত্রে কে কোন দল বা মতের তা দেখা হচ্ছে না। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ বেতার-টেলিভিশন শিল্পী সংস্থার সঙ্গে মতবিনিময় সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের এই পদক্ষেপের জন্য বিএনপির উচিত সরকারকে সাধুবাদ জানানো। কারণ, যেখানেই মাদক বা ক্যাসিনো অথবা অনিয়ম দুর্নীতি ধরা পড়ছে সেখানেই সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে, যা বিএনপির আমলে করা হয়নি। বরং বিএনপির শাসনামলে তারা দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল এবং হাওয়া ভবন বানিয়ে প্রত্যেক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ শতাংশ কমিশন নেওয়াকে বাণিজ্যে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যিনি লন্ডনে পলাতক তিনি ছিলেন অজগর সাপ। সব কিছুই খেয়ে ফেলতেন। সে জায়গায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব অনিয়ম-দুর্নীতি এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অগ্রসর হচ্ছেন। এতে তো বিএনপি নেতৃবৃন্দের খুশি হওয়ার কথা এবং প্রধানমন্ত্রীকে সাধুবাদ দেওয়ার কথা আর তাদের ব্যর্থতার জন্য লজ্জা পাওয়ার কথা।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায়। তাই, যেখানেই অনিয়ম পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই ব্যবস্থা নিচ্ছে। অনেক অনুপ্রবেশকারী আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ে ঢুকে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশকে পরপর দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন বানানো বিএনপির দুর্নীতি নিয়ে কথা বলার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

শিল্পীদের বিভিন্ন ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শিল্পীদের ভূমিকা অনন্য। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর গণতন্ত্রের পায়ে যখন শেকল পরিয়ে রাখা হয়েছিল, তখনো শিল্পীরা গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা স্বপ্ন বুনেছি। এই স্বপ্ন পূরণে আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হতে চাই। কিন্তু বস্তুগত উন্নয়নের পাশাপাশি একটি মানবিক জাতি গঠন করতে হবে। আর এই মানবিক জাতি গঠনে শিল্পীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনি বলেন, শিল্পীরা তাদের দক্ষতা দিয়ে অন্যদের বিনোদন দেন। কিন্তু তাদের নিজেদেরই রয়েছে অনেক দুঃখ। এজন্য শিল্পী সম্মানী ভাতা বাড়াতে হবে।

সভায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, বাংলাদেশ বেতার-টেলিভিশন শিল্পী সংস্থার সভাপতি ড. ইনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম বাশার উপস্থিত ছিলেন।