দেশে কাঁচা ঘরের সংখ্যা এখনো ২ কোটির ওপর। মোট আবাসিক বাড়ি ছিল ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৪০ হাজার। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ ঘর এখনো কাঁচা। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুরে্যার (বিবিএস) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল সোমবার বিবিএস মিলনায়তনে ‘সার্ভে অন অকুপাইড রেসিডেন্সিয়াল হাউজ অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট সার্ভিসেস-২০১৮’-এর প্রকশনা ও মোড়ক উন্মোচন করা হয়। আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বিকাশ কুমার দাস এবং সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক কৃষ্ণা গায়েন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) আবাসন খাতের অবদান এখন ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও নির্মাণ মিলিয়ে তিন উপখাতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্য সংযোজন হয়েছে। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৩১১ কোটি ১০ লাখ টাকা। এক বছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের হিসাবে বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭৮ হাজার আবাসিক বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে দেশে পাঁচতলার ওপর বহুতল ভবনের সংখ্যা ১৮ লাখ ৫০ হাজার। পাঁচতলার নিচে ৩৭ লাখ ৯০ হাজার। আধা পাকা ১ কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার। কাঁচা ২ কোটি ৯ হাজার এবং ঝুপড়ি ২ লাখ ৫০ হাজার। বসবাসের ঘরের গড় আয়তন ৪২৫ বর্গফুট।
জরিপ থেকে তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট বাড়ির মধ্যে ৮৫ দশমিক ৮২ শতাংশ পরিবারের নিজের বাড়ি আছে। ভাড়া বাড়িতে থাকে ১২ দশমিক ২১ শতাংশ পরিবার ও ভাড়া ছাড়াই বাড়িতে থাকে ১ দশমিক ৭১ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্যভাবে বাড়িতে থাকে ১ লাখ পরিবার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবাসন খাতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ভাড়া বাবদ আয় ছিল ৮১ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা, যা পরের অর্থবছর বেড়ে দাঁড়ায় ৮৯ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এক বছরে এক হাতে মূল্য সংযোজন ৭০ হাজার ২০৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা। এই হিসাবে বাজার মূল্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ২১ শতাংশ।
আবাসন খাতে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৪১৫ জন কাজে নিয়োজিত আছেন। শ্রমিকদের ৩১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা বেতন হিসেবে ও ৫৩৪ কোটি টাকা অন্যান্য পাওনা বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে। দেশে মোট ৫৩ লাখ ২০ হাজার বাণিজ্যিক ভবন রয়েছে। এসব ভবনে ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ মালিক নিজেই ব্যবহার করে থাকেন। পজিশন বিক্রি ২ দশমিক ১২ শতাংশ ভবনে। আর ভাড়া দেওয়া হয়ে থাকে ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভবন।
এদিকে দেশে নির্মাণ খাতে ৩ হাজার ১৩২ প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস। যার ৩৪ দশমিক ২৯ শতাংশ রিহ্যাব ও ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ বাংলাদেশ ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলডিএ) সদস্য। নির্মাণ খাতে মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ৩৯২ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার পরিসংখ্যান ব্যুরো। সরকারের নীতিনির্ধারণে সঠিক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে বিবিএস।
বিকাশ কিশোর দাস বলেন, এ প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে বাসার আকার যত বড় ভাড়া তুলনামূলক তত কম। এছাড়া ছোট বাসার ভাড়া গুনতে হচ্ছে বেশি। সেই সঙ্গে বস্তিতে যারা থাকছেন তাদের আবাসিক সুযোগ সুবিধা কম থাকলেও ভাড়া দিতে হচ্ছে বেশি। যে পরিবেশে বাস করুক না কেন মানুষের আয়ের ৫০ শতাংশ যাচ্ছে বাড়িভাড়া দিতেই। অন্যদিকে যারা বাড়ির মালিক তারা যে পরিমাণ বিনিয়োগ করেন সে পরিমাণ লাভ পাচ্ছেন না