জিআরপি থানায় ‘দলবদ্ধ ধর্ষণ’

৫১ দিন পর ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা

অবশেষে ৫১ দিন পর খুলনা রেলওয়ে (জিআরপি) থানায় এক নারীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। এতে ওই থানার সাবেক ওসি উছমান গনি পাঠানসহ পুলিশের পাঁচ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়। এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর খুলনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত-৩

এর নির্দেশে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে ওসি ও পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। কারাগারে থেকেই ওই মামলাটি করেন সেই নারী। মামলার নথির সঙ্গে আদালতে দেওয়া ওই নারীর জবানবন্দিও সংযুক্ত করা হয়।
গতকালের মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বলেন, ওই নারী বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলার এজাহারে তিনি সেদিন তার ওপর হওয়া ধর্ষণের বর্ণনা দিয়েছেন। আদালতের বিচারক মোহা. মহিদুজ্জামান বাদীর আরজি আমলে নিয়ে তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।
গত ২ আগস্ট বেনাপোল থেকে খুলনাগামী কমিউটার ট্রেন থেকে ওই নারীকে আটক করে খুলনা জিআরপি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে থানা হেফাজতে রাখার পর সকালে পাঁচ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের মামলায় তাকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। ওই নারী স্বজনদের জানান, থানায় রাতে তাকে ওসিসহ পাঁচজন ধর্ষণ করেছেন।
এরপর আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত ৪ আগস্ট ওই নারীর জবানবন্দি গ্রহণ করে। একই দিন তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় গত ৭ সেপ্টেম্বর ওসি উছমান ও ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হাসানকে প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে জেলায় সংযুক্ত করা হয়। মাদক মামলায় গত ২৮ আগস্ট ওই নারী জামিন পান।
এর আগে ওই ঘটনার তদন্তে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া রেলওয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাকশী থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন রেলওয়ে পুলিশের কুষ্টিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ। আদালতের নির্দেশে হওয়া পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও তিনি। জানতে চাইলে পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ বলেন, একই ঘটনার দুটি মামলা হয় কি না তা জানা নেই। তবে আদালতে যেটা ভালো মনে করেছেন সেটাই হয়েছে।