দেশে প্রথম সাফল্য ধরা দেবে আজ?

ত্রিদেশীয় সিরিজের শুরুটা ছিল বাজে। কিন্তু আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশ ফেভারিট! স্বাগতিকদের টানা দুই জয় এবং আফগানদের টানা দুই হার হিসাবটাকে এখানে এনেই দাঁড় করিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দুরন্ত প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সাকিব আল হাসানের দল প্রথম কোনো টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের শিরোপাটা জিততে পারবে তো? গতকাল দুপুরে একটা আক্ষেপ উড়ে বেড়ালো স্টেডিয়াম
এলাকায়। বাংলাদেশ দল অনুশীলন সেরে দুপুরে ফিরে গেল টিম হোটেলে। এরও বেশ কিছুক্ষণ পর তামিম ইকবাল ঢুকলেন। তৈরি হয়ে গেলেন নেটে। বাংলাদেশ দেশের মাটিতে একটা ফাইনাল খেলছে অথচ তামিম নেই। ওপেনিং পার্টনারশিপও শ্রীহীন।
যা নেই তার জন্য আক্ষেপ না করে বাংলাদেশ দল অবশ্য আজকের লড়াইয়ে খুব মনোযোগী। চট্টগ্রাম থেকে ফিরেছে অপরাজিত হিসেবে। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জয়ী দল; লিগ পর্বের ৪ খেলার ৩টি জিতেছে। রশিদ খানের আফগানদের জয় দুটিতে। জিম্বাবুয়ে একটা জিতেছে। তবে জিম্বাবুইয়ানদের ওই এক জয় আবার বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তারা আফগানিস্তানকে হারিয়েছে। হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে যুঝতে থাকা সাকিবের দল এরপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আফগানদের বধ করে ফিরেছে ঢাকায়।
শেষ ম্যাচে ওই জয়। চোটের কারণে যে দলে ছিলেন না তরুণ লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। এখনো হাতে তিন সেলাই। কোচ রাসেল ডমিঙ্গো তাকে ফাইনালে তাই খেলাতে চান না। আর আফগানিস্তান স্পিনে একটু বেশি ভালো। সেই হিসেবেও একজন পেসার বাড়িয়ে নেওয়া যায়!
তাহলে চার পেসার আজ? বাঁহাতি স্পিনার সাকিবের টি-টোয়েন্টি দলে! দেশে সাকিব সবসময় স্পিনে ভরসা রাখতে চান। বিপ্লব যে ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছিলেন সেটিতে দুই স্পিনার আর তিন পেসার ছিল। পরেরটিতে সাকিব একা স্পিনার, সঙ্গে তিন পেসার। একজন বোলার কম। গতকাল প্রধান কোচ ডমিঙ্গো বললেন, ‘আমি সবসময় ১০০% ফিট খেলোয়াড় খেলাতে পছন্দ করি। হাতে সেলাই নিয়ে তাকে (বিপ্লব) খেলতে দেখতে চাই না।’
তার মানে বিপ্লবের সুযোগ নেই। কিন্তু কোচের পরের কথাটার মানে কি? ‘আমাদের ১২ খেলোয়াড়ের তালিকায় চতুর্থ এক সিমারকে আমরা যোগ করতে যাচ্ছি। (একাদশের) সিদ্ধান্ত হবে কাল (আজ), উইকেট দেখে। বাড়তি পেস ও বাউন্স থাকলে তা আমরা কাজে লাগাতেই পারি।’
সোজা মানে। রুবেল হোসেন ১৫ সদস্যের দলের চতুর্থ পেসার। তিনি ১২ জনে ঢুকে পড়ছেন। গেল ম্যাচে সুযোগ হেলায় হারানো সাব্বির রহমানের জায়গায় একাদশেও ঢুকে যেতে পারেন। তেমনটা হলে ২০২০ অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে দেশের মাটিতে এই ফাইনাল দিয়ে বাংলাদেশের ‘চার পেসার তত্ত্ব’ শুরু হয়ে যাবে।
চার পেসার দেখলে আফগানদের একটু ভড়কে যাওয়া স্বাভাবিক। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শফিউল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে আরও একজন! এই প্রশ্নের জবাবের চেয়ে তাদের কাছে সাকিব-তাইজুল-বিপ্লবদের স্পিন প্রশ্নের জবাব দেওয়া সহজ। এমনিতে স্পিনে তারা ভালো। তার ওপর গেল প্রায় মাসখানেক এখানে থেকে স্পিনের সঙ্গে আরও বেশি মানিয়ে নিয়েছে। ওটাই যে নেটে ও মাঠে বেশি খেলেছে।
তবে এটা মূল দুশ্চিন্তা নয়, আফগানদের ঘাম ছুটে যাচ্ছে অন্যখানে। অধিনায়ক রশিদ খান চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে চোটে মাঠ ছেড়েও পরে আবার ফিরেছিলেন। গতকাল প্রেস কনফারেন্সে নিজের ফাইনালে খেলার নিশ্চয়তা দিতে পারলেন না রশিদ, ‘এখনো বলতে পারছি না। আগামীকাল (আজ) সিদ্ধান্ত নেব।’ ফাইনালে খেলার মতো ফিট কি না প্রশ্নে তার এই জবাব। যদিও বলছেন, ব্যাকআপে ভালো বাঁহাতি স্পিনার আছে মুজিব ও নবির সঙ্গে। কিন্তু তা কি আর আফগানদের দুশ্চিন্তা দূর করতে পারে? তার ওপর টানা দুই ম্যাচে হেরে এবার একই সঙ্গে জয়ে ফেরা ও শিরোপা জেতার কঠিন লড়াই। চাপে তারা।
মিরপুরের উইকেট একটু বেশি স্পিনবান্ধব। কিন্তু বাংলাদেশ যখন চার পেসার খেলানোর আগ্রহ দেখাচ্ছে তখন শেষে তা না হলেও তিন পেসার তো থাকবে। সুতরাং, শিরোপা জেতার এই লড়াইয়ে স্পিন স্বাগতিকদের মূল শক্তি হচ্ছে নো কোনোভাবে। আর হোমগ্রাউন্ডে খেলা বলে কিউরেটর নিশ্চয়ই আগে থেকে ইঙ্গিত পেয়ে থাকবেন। যদিও মিরপুরের উইকেট অনেক ভালো করে তুললেও পেসারদের জন্য অনেক ভালো হয় না। তারপরও কিছুটা তো হবে। এখানে তাই বাংলাদেশের পেসারদের পরীক্ষা দিতে হবে নিজেদের নৈপুণ্য প্রমাণের। আর আফগানদের ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা হবে পেস বোলিং খেলার নৈপুণ্য দেখানোর। হয়তো এটাই ম্যাচে ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে। সেই সঙ্গে শিরোপা কার ঘরে উঠবে সেই প্রশ্নের জবাবও হতে পারে এই পেস বোলিং।
আফগানরা ব্যাপারটা জানে। তারা প্রস্তুতি নেবে না? নেবে। তবে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের স্পিনেই আসল পরীক্ষা দিতে হবে। রশিদ খেললে পেস খেলার পরীক্ষা ৮ ওভারের। রাশিদ-মুজিব-নবি ট্রায়ো ছাড়া আফগান দল ভাবা যায় না।
সব শেষে পরীক্ষাটা যে কে আসলে কার নেবে তা আগেভাগে আপাতত বোঝার উপায় নেই। অপেক্ষা তাই ফাইনাল খেলার।