আইনজীবীসহ ২ আসামিকে আদালত থেকে অপহরণ

পাবনায় প্রকাশ্যে আদালত চত্বর থেকে এক আইনজীবী এবং জামিনে থাকা দুই আসামিকে ফিল্মি স্টাইলে মাইক্রোবাসে করে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পাবনার জজকোর্ট চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। অবশ্য পরে আইনজীবী সমিতি এবং পুলিশি তৎপরতায় বেলা দেড়টার দিকে অপহরণকারীরা পাবনা সদর উপজেলা পরিষদ এলাকায় আইনজীবীকে এবং পাশের সড়কে দুই আসামিকে ছেড়ে দেয়।
এদিকে দিনদুপুরে এভাবে আদালত চত্বর থেকে অপহরণের ঘটনায় বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে সংগঠনের
সভাপতি আমিনুল ইসলাম পটল বাদী হয়ে একটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ ইকবাল লিটন দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সোমবার পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে ১১৩/১৮ নম্বর মামলার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে বিচারক দুই আসামি নাটোরের বড়াইগ্রামের ভরতপুর গ্রামের আবু সাঈদ মোল্লা (৪০) এবং শহিদ মোল্লার (৩৭) জামিন মঞ্জুর করেন। দুপুর ১২টার দিকে মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী সাইদুর রহমান চৌধুরী দুই আসামিকে নিয়ে আদালত চত্বর থেকে বের হন। তখন একই মামলার বাদী তানমিরা ইয়াসমিনের বাবা পাবনার ঈশ্বরদীর সাহাপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে ৯-১০ জন সশস্ত্র যুবক আইনজীবী সাইদুর রহমান এবং ওই দুই আসামিকে টেনেহিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তোলে। এ সময় আসামি সাঈদ মোল্লা ও শহিদ মোল্লাকে রড দিয়ে বেদম মারপিট করতে থাকে অপহরণকারীরা। আদালত চত্বরে তখন পুলিশসহ শত শত মানুষ উপস্থিত থাকলেও কেউ অপহরণকারীদের বাধা দেওয়ার সাহস পাননি।
আইনজীবী সাজ্জাদ আরও জানান, অপহরণকারীরা ওই তিনজনকে অপহরণ করে সরাসরি পাবনা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে নিয়ে যান। পুলিশকে ফোন করার পর পুলিশ পিছু নেওয়ায় অপহরণকারীরা আইনজীবী সাইদুর রহমান চৌধুরীকে ছেড়ে দিলেও দুই আসামিকে পেটাতে থাকে। পরে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ মোশারোফ হোসেন তাদের দুজনকে অপহরণকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু হাসপাতালে নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় আবু সাঈদ মোল্লা এবং শহিদ মোল্লাকে পরে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাবনার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার শামিমা আকতার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার সাথে সাথেই পুরো শহরে পুলিশি অভিযান শুরু হয়। পরে সন্ত্রাসীরা বাধ্য হয়ে উপজেলা চত্বরে তাদের রেখে পালিয়ে যায়। মামলা হলে ওই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।’