সংরক্ষিত আসনের বিএনপিদলীয় সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়াকে আটকের পর মামলার জামিনের কাগজ দেখালে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের
আমনুরা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক পথসভা শেষে কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করতে যায় পুলিশ।
পাপিয়ার দাবি, গত রবিবার মামলার রিকল ও জামিনের কাগজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় জমা দেওয়ার পরও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি করতেই পথসভায় আটকের চেষ্টা চালায় পুলিশ। তবে পুলিশ বলছে, তিনটি মামলার রিকল রবিবার থানায় পাঠানো হয়। কিন্তু ৫ বছর সাজার উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কোনো কাগজ জমা দেননি।
সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির নির্বাচিত সাংসদ হারুনুর রশিদের স্ত্রী ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী তসিকুল ইসলাম তসির নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আগামী ১৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী তসিকুল ইসলাম তসির পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। গতকাল ঝিলিম ইউনিয়নের আমনুরা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে প্রথম পথসভা আহ্বান করে। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। পথসভায় বক্তব্য শেষ করে গাড়িতে উঠতে গেলে সদর থানা পুলিশের একটি দল গাড়ি ঘিরে ফেলে। এ সময় বেশ কিছুক্ষণ ধরে বাগ্্বিত-া হয় বিএনপি নেত্রী পাপিয়াসহ অন্যান্য নেতার সঙ্গে।
পাপিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘ধানের শীষ প্রতীক পাওয়ার পর প্রথম পথসভা করতে গিয়েই পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করতে ওসি প্রায় ৩০ জন পুলিশ নিয়ে আমাকে গ্রেপ্তার করতে যায়। যে মামলায় তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে যায় সেই মামলার রিকল ও জামিনের কাগজ গতকাল (রবিবার) থানায় জমা দেওয়ার পরও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে হয়রানি করতেই প্রকাশ্য পথসভায় যায় পুলিশ। ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করতে আমাকে প্রায় ১ ঘণ্টা আটকে রেখে হয়রানি করে।’
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ ঢাকার পল্টন থানার দুটি ও দারুসসালাম থানার একটি মামলার ওয়ারেন্ট এবং ২০০৭ সালের একটি মামলার ৫ বছরের সাজার আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করতে যাওয়া হয়েছিল। তবে, উচ্চ আদালতের মামলার স্থগিতাদেশ ও জামিনের কাগজ দেখানোর পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী পথসভায় আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, ‘ পথসভা শেষ হয়ে যাওয়ার বেশ কিছুক্ষণ পর যখন তিনি তার মাইক্রোতে উঠছিলেন তখন সেখানে পুলিশ যায়।’