‘সমাজসেবার জন্য’ যুবদল নেতা এখন যুবলীগের আহ্বায়ক

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মারুকা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাক মেম্বার এখন যুবলীগের আহ্বায়ক। ২৪ সেপ্টেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেনসহ দুই যুগ্ম আহ্বায়ক স্বাক্ষরিত কমিটিতে মোস্তাক মেম্বারকে আহ্বায়ক করে ২২ সদস্যের এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, দাউদকান্দি উপজেলা যুবলীগের দুই যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল মাহমুদ ও মেহেদি হাসান সুমন ২২ সেপ্টেম্বর রবিবার উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাজারুল সরকারকে আহ্বায়ক করে মারুকা ইউনিয়ন যুবলীগের ২১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন।

পরদিন সোমবার এ কমিটি বাতিল করে সন্ধ্যায় উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন ও উল্লেখিত দুই যুগ্ম আহ্বায়কসহ তিনজন ওই ইউনিয়নের  যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাক মেম্বারকে আহ্বায়ক করে ২২ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন।

এ কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।

এ নিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তৃণমূল নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার যখন সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত শুদ্ধি অভিযান চালানোর নির্দেশে দিয়েছেন, ঠিক এ সময় মারুকা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ককে ওই ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক ঘোষণা করা হলো।

উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাজারুল সরকার বলেন, এমপি স্যারের সাথে কথা বলে হেলাল ও সুমন আমাকে আহ্বায়ক করেছিলো। আনোয়ার ভাই আমাকে বলে যে কমিটি অনুমোদন দিতে আমাদের কিছু খরচ লাগে, আমি খরচ দিতে অস্বীকার করায় পরদিন আমাকে বাদ দিয়ে যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাক মেম্বারকে আহ্বায়ক করে আনোয়ার ভাই কমিটি ঘোষণা করেন।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এই সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একসময় ছাত্রলীগ করতে গিয়ে যাদের হাতে মাইর খেয়েছি, হামলা মামলার শিকার হয়েছি, টাকার বিনিময়ে আমাকে বাদ দিয়ে তাদেরকে দিয়ে কমিটি করা হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে মোস্তাক মেম্বার বলেন, ‘আমি একজন সামাজিক লোক, সমাজসেবা করাই আমার কাজ। বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন যুবদল করে সমাজ সেবা করেছি, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় তাই সমাজসেবা করার জন্যই যুবলীগ করছি।

কত টাকার বিনিময় আহ্বায়ক হয়েছেন- এমন প্রশ্ন করলে বলেন, ‘ভাই আপনারা তো জানেন কমিটি হলে লোকজন নিয়ে যেতে হয়, নেতাদের আপ্যায়ন করতে হয় তাই কিছুতো খরচ হবেই।’

উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন টাকা পয়সা লেনেদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মোস্তাক মেম্বার এর আগে মারুকা ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য ছিলেন। তার আগে সে বিএনপি করতো এখন সে যুবলীগের সক্রিয় লোক। অনেক কেন্দ্রীয় নেতারাও দল বদল করে। তাই স্থানীয় নেতাদের সাথে আলোচনা ও তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই মোস্তাক মেম্বারকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। আহ্বায়কের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো কমিটি অনুমোদন হয় না।

তিনি বলেন, যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল মাহমুদ ও মেহেদি হাসান সুমন আমার সাথে আলোচনা ছাড়াই স্বাক্ষর করেছে। তাই পরদিন সবার সাথে আলোচনা করেই আমরা কমিটি ঘোষণা করেছি।