গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম ও সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাইয়ের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স ইউনিট। এছাড়া সরকারদলীয় সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওই দুই সাবেক কর্মকর্তার ঘোষিত সম্পদের তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলগুলোতেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আগে সোমবার শাওনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চিঠি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওইদিন ঢাকা দক্ষিণের যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন সম্রাটের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করার পর গতকাল সম্রাট দম্পত্তির হিসাবও জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে গত বুধবার থেকে চলমান দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের পর সব মিলিয়ে মোট ১০ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হলো।
গত শুক্রবার র্যাবের অভিযানে নিকেতন থেকে গ্রেপ্তার হন ঠিকাদার ও যুবলীগ নেতা জি কে শামীম। অবৈধভাবে সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছ থেকে ওই দুই প্রকৌশলীর ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আমাদের সেন্ট্রাল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (সিআইইউ) ব্যাংকগুলোর কাছে তাদের হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।
রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার ছেলে শাওনের নামে হংকংয়ের এইচএসবিসি ব্যাংকে ২০০ কোটি টাকা পাচারসহ কানাডায় বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার নামে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাড়ি, গ্রিনরোডে দুটি অ্যাপার্টমেন্ট, গুলশানে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বনানীতে আনোয়ার মঞ্জিল নামে একটি বাড়ি থাকার কথা জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। এছাড়া মিরপুরে ১০ কাঠা জমির ওপর ১২ তলা ভবনও রয়েছে তার। আবদুল হাইয়ের নামেও বিপুল সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, গত কয়েকদিনে পুলিশ-র্যাবের অভিযানে যুবলীগের যে দু’জন নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদেও জিজ্ঞাসাবাদে যাদের নাম এসেছে, এ মুহূর্তে তাদেও ব্যাংক হিসাবের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের আয়ের উৎস দেখার জন্য এই তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যাদের কাছে অর্থ পাওয়া গেছে, আমরা তাদের ট্যাক্স ফাইল খতিয়ে দেখছি। আর এই করের বিষয় যাচাই করার জন্যই সন্দেহভাজনদেও ব্যাংক হিসাব জব্দ বা তলব করেছি। তারা যাতে টাকা সরিয়ে নিতে না পারে, সেজন্যই আমরা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও সন্দেহভাজনদের ব্যাংক হিসাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। এ ইউনিটের প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান জানান, অর্থপাচার প্রতিরোধ সম্পর্কিত আইনে তারা তথ্য পাওয়ার পর তদন্ত করবেন। ক্যাসিনো কিংবা মাদক-যেগুলো নিষিদ্ধ, সেগুলোর ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেও ব্যাংক হিসাব সম্পর্কে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি। তাদের একাউন্টে কি পরিমাণ অর্থ আছে এবং লেনদেন হয়েছে-এসব তথ্য আমরা সংগ্রহ করছি।