পুলিশ ও গোয়েন্দাদের সহায়তায় ৯ নেপালির চম্পট

ক্যাসিনো কারবারিদের সহযোগী ৯ নেপালিকে ঢাকা থেকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যসহ তিনজন। ডিএমপির গোয়েন্দা ও ডিসিপ্লিন বিভাগ ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করেছে। তবে প্রাথমিক তদন্তের স্বার্থে পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের নাম প্রকাশ করেননি। ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, পুলিশের এক সদস্যসহ দুই গোয়েন্দা সদস্যের সহযোগিতায় ৯ নেপালি পালিয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

গত বুধবার রাতে রাজধানীর মতিঝিলের ইয়ংমেনস ক্লাব, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব, বনানীর গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ এবং গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে চারটি ক্লাবের অবৈধ ক্যাসিনো থেকেই বিপুল পরিমাণ জুয়ার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। আর অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়ার বিরুদ্ধে যখন র‌্যাবের এ অভিযান চলছিল তখন সেগুনবাগিচার একটি বাসা থেকে ৯ নেপালি পালিয়ে যায়। এই নেপালিরা ক্যাসিনো ও জুয়ার কারিগরি সহায়তা দিত। ওয়াকিটকি হাতে থাকা তিনজনের মধ্যে একজন বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, একজন ডিএমপির রমনা থানার পুলিশ সদস্য ও অপরজন মোহামেডান ক্লাবের কর্মচারী ছিলেন। এদের পরস্পর যোগসাজশে নেপালিদের পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে ভবনটির সিসিটিভি ফুটেজে। রমনা থানার ওসি মাঈনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সন্দেহভাজন পুলিশ সদস্য গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে থানায় অনুপস্থিত। মৌখিকভাবে সে অসুস্থতার কথা বলে রাজারবাগ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিল। তার পর থেকে আর কাজে যোগদান করেননি।

এদিকে গতকাল ডিএমপির জনসংযোগ শাখায় সংবাদ সম্মলেনে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, অনেকেই না জেনে ওয়াকিটকি হাতে সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিকে পুলিশ সদস্য বলে মন্তব্য করেছেন। শুধু পুলিশ সদস্যরাই ওয়াকিটকি ব্যবহার করে না। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত সদস্যরা, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরাও ওয়াকিটকি ব্যবহার করে থাকে। এ সময় তিনি নিশ্চিত না হয়ে পুলিশ সদস্য বলে প্রচার না করার অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন টিম কাজ শুরু করেছে। সিসিটিভির ছবি পরীক্ষা করে ওই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।