টাঙ্গাইলে ১২১৪টি মণ্ডপে চলছে দুর্গা পূজার প্রস্তুতি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের প্রতিমা শিল্পীরা। প্রতিমার কাঠামোর মাটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এরপর শুরু হবে দেবী দুর্গাকে রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলার কাজ।

উঁচু-নিচুর বিভেদ ভুলে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একত্র করে বলে একে বলা হয় সর্বজনীন পূজা। আর শরৎকালে হয় বলে বলা হয় শারদীয় উৎসব।

টাঙ্গাইল জেলায় এ বছর ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ২শ’ ১৪টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২০৯ টি, ধনবাড়ী উপজেলায় ২৯ টি, মধুপুর উপজেলায় ৫২ টি, ভূঞাপুর উপজেলায় ৩৮ টি, গোপালপুর উপজেলায় ৫১ টি, ঘাটাইল উপজেলায় ৭৮ টি, কালিহাতী উপজেলায় ১৮০ টি, দেলদুয়ার উপজেলায় ১২৪ টি, নাগরপুর উপজেলায় ১২৫ টি, মির্জাপুর উপজেলায় ২৩৩ টি, বাসাইল উপজেলায় ৫১ টি ও সখীপুর উপজেলায় ৪৪ টি পূজা মণ্ডপ রয়েছে। জেলার উল্লেখযোগ্য মণ্ডপগুলো হচ্ছে- বড় কালীবাড়ী, আদালতপাড়া, করটিয়া, বাজিতপুর, পাথরাইল, করাতি পাড়াসহ বেশ কয়েকটি। শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের জন্য প্রতিটি মণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকবে।

সরেজমিনে জেলার কয়েকটি মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গতিনাশিনী দুর্গাদেবীকে বরণ করে নিতে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি ও সাজসজ্জার কাজ চলছে। তৈরি করা হচ্ছে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুর, সিংহ, মহিষ, প্যাঁচা, হাঁস, সর্পসহ প্রায় ১২ টি প্রতিমা। ঢাক, ঢোল বাদ্যকাররা বাদ্যযন্ত্র ঠিকঠাক করে নিচ্ছেন। সেই সঙ্গে ব্যস্ত প্রতিমা কারিগররাও। মূর্তি গড়া শেষে রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলা হবে প্রতিমা।

দেবীকে স্বাগত জানাতে সর্বত্র আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের আবালবৃদ্ধ বনিতা নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষ এ সর্ব বৃহৎ শারদীয় উৎসবকে সার্থক করতে প্রহর গুনছে। সব মিলিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে।

টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সূত্রে জানা যায়, ৬ অক্টোবর মহাঅষ্টমী, ৭ অক্টোবর মহানবমী অনুষ্ঠিত হবে। ৮ অক্টোবর বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে এ দুর্গাপূজা শেষ হবে।

এ ব্যাপারে কথা হয় তারটিয়া পালপাড়ার পরিমল পালের সাথে। তিনি বলেন, এবার আমি ১০টি প্রতিমা তৈরি করেছি। এতে আমার প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছি ৩ লাখ টাকার মতো বিক্রি হবে। এটা আমাদের পৈতৃক ব্যবসা। তাই এই ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য আমরা কাজ করছি।

টাঙ্গাইল জেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার ঝন্টু বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ এবং আনসার সদস্যদের পাশাপাশি আমাদের লোকজনও নিরাপত্তার কাজ করবেন। এবারও সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি মণ্ডপের জন্য চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজা মণ্ডপে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যও দায়িত্ব পালন করবে। অপরদিকে মোবাইল টিম, সাদা পোশাকে পুলিশও কাজ করবে। আশা করছি কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।