হাওরে নৌকা ডুবে ১০ নারী-শিশুর মৃত্যু

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কালিয়াকুটা হাওরে নৌকা ডুবে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাত শিশু ও তিন নারী রয়েছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ ঘটনা ঘটে।

দিরাই থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, বুধবার পেরুয়া গ্রামে ফিরোজ আলীর ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে যাওয়ার জন্য গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাছিমপুর ও নোয়ারচরের ফিরোজ আলী প্রায় ৩০-৩২ জন স্বজনসহ ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকা নিয়ে পেরুয়া গ্রামে রওনা হন। যাত্রীবোঝাই নৌকাটি কালিয়াকুটা হাওরের আইনুল বিলের পাশে ঝড়ের কবলে পড়ে। ঝড়ের তোড়ে নৌকাটি উল্টে যায়। এ সময় ২০ যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠলেও ডুবে মারা যায় উপজেলার নোয়ারচর গ্রামের আবজল মিয়ার দুই ছেলে সোহান মিয়া (১) ও আসাদ মিয়া (৫), আবজলের স্ত্রী আজিরুন বেগম (৩৫), মাছিমপুর গ্রামের জাসদ মিয়ার মেয়ে শান্তা বেগম (৩), বাবুল মিয়ার ছেলে শামীম (২), বদরুল মিয়ার ছেলে আবির মিয়া (৩), আরজ আলীর স্ত্রী রহিতুন নেসা (৩৫), মেয়ে তাছমিনা বেগম (১১), পেরুয়া গ্রামের নছিব উল্লার স্ত্রী করিমা বিবি (৭০) এবং ফিরোজ আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৮)। সাঁতরে উদ্ধার পাওয়া যাত্রীরা জানান, তাদের চিৎকারে স্থানীয় মানুষজন হাওরে তাৎক্ষণিক উদ্ধার 

তৎপরতা শুরু করেন। তারা তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে রাতেই উদ্ধার কাজে যোগ দেয় দিরাই থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে প্রচ- বাতাস ও বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার রাত ১২টায় উদ্ধার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে বুধবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত বাকি সাতজনের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

এদিকে উদ্ধারকৃত লাশগুলো পুলিশ মাছিমপুর নিয়ে গেলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বুধবার দুপুরের পর পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দিরাই থানার ওসি কেএম নজরুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ সবার লাশ হাওর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখন আর কেউ নিখোঁজ নেই। নিহতদের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকতা বিশ্বজিৎ দেব জানান, মৃতদের দাফনের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।