দুই দিন পতনের পর ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের শেয়ারের দরবৃদ্ধিতে গতকাল সূচকে বাড়তি পয়েন্ট যোগ হয়েছে। এইদিন লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ শেয়ারের দর না বাড়লেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কেনাবেচা বেড়েছে। তবে গত সপ্তাহের শুরুর দুই দিনের ঊর্ধ্বগতির পরও ডিএসইর প্রধান সূচকটি এখনো পাঁচ হাজার পয়েন্টের নিচে অবস্থান করছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের পুরো সময়ই সূচকের ওঠানামা লক্ষ করা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা ও টেলিযোগাযোগ খাতের দরবৃদ্ধিতে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচকে ১৬ পয়েন্ট যোগ হয়েছে। এতে সূচকটি ৪৯৬৮ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।
গতকাল পুঁজিবাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দেয়, বিশেষ করে উৎপাদনমুখী কোম্পানির শেয়ারে। লভ্যাংশ ঘোষণার প্রক্রিয়ায় থাকলেও এসব কোম্পানির শেয়ারে তেজিভাব দেখা যায়নি। বরং লভ্যাংশ ঘোষণার পরও কিছু কোম্পানির শেয়ার দর উল্টো কমতে দেখা গেছে। বিপরীতে আর্থিক খাতের শেয়ারে চাঙ্গাভাব লক্ষ করা গেছে। গতকাল ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল বীমা খাত।
এদিন ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশই এসেছে সাধারণ বীমা কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচা থেকে। সাধারণ বীমার ৩৫ কোম্পানির ২৯টির দর বেড়েছে। গড়ে এ খাতটির বাজার মূলধন বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে সোনার বাংলা ও ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের দর। ব্যাংক শেয়ারে মিশ্রভাব থাকলেও বড় কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ায় খাতটির বাজার মূলধন বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া এনবিএফআই খাতের বাজারমূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। আর টেলিযোগাযোগ খাতের দর বেড়েছে ১ দশমিক ২ শতাংশ। মূলত এ চার খাতের দরবৃদ্ধিই সূচক বাড়াতে সহায়তা করেছে। সূচকে প্রভাব কম থাকলেও গতকাল সিরামিক খাতের দর বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।
এছাড়া প্রকৌশল খাতের দরও সামান্য বেড়েছে। বিপরীতে ট্যানারি, মিউচুয়াল ফান্ড, বস্ত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দর কমেছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। ৪১১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫২টির, কমেছে ১৫৫টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৭টির।